বিএনপির সবার পদত্যাগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

কক্সবাজার অফিস

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের দলের প্রধানকে মুক্ত করতে দেড় বছরে দেড় মিনিটও রাস্তায় নামতে পারেনি। বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেও ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং এই ব্যর্থতার কারণে বিএনপির টপ টু বটম সবার পদত্যাগ করা উচিত।

রোববার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার সরকারি-বেসরকারি অফিস প্রধান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার সারা দেশে দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। নিজ দলের ভেতরেও অ্যাকশন চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অভিযান দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের জনপ্রিয়তা গত কয়েক দিনে আরো বেড়েছে। তা দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হচ্ছে। যে বিরোধী দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল তারা কখনও নিজেদের দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি চাঁদাবাজ, দাগি লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। হাওয়া ভবনকে তারা বিকল্প পাওয়ার সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলেছিল। এ দেশের মানুষ তা জানে।

তিনি বলেন, যারা অপকর্ম করে আসছে, তারা আরেক দল থেকে আসা লোক- এ কথা আমি বলবো না। কারণ এরা আওয়ামী লীগের পরিচয়েই অপকর্ম করেছে। কাজেই এ দলের লোক হিসেবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই সৎ সাহস শেখ হাসিনা ছাড়া অতীতে আর কেউ দেখাতে পারেনি। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের এই শুদ্ধি অভিযান সব মহলে প্রশংসা পেলেও বিএনপি নেতাদের মুখে ভিন্ন কথা। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বিএনপির মুখে দুর্নীতির কথা ভূতের মুখে রাম নাম। অন্যদলের সমালোচনা এখন আর করি না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে কিছু কথার জবাব দিতে হয়, তাই দিলাম।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের আওয়ামী লীগ করার প্রয়োজন নেই। জনগণের সেবায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। কাউকে খুশি করার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ভয় ভীতি ত্যাগ করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন, তাতেই আওয়ামী লীগের উপকার হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাধ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, জাফর আলম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য লে. কর্নেল আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।