প্রধান শিক্ষকের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল ছাত্রের

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

পাবনা অফিস

আহত শিক্ষার্থী ইমন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ছোট বিশাকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদের থাপ্পড়ে ইমন হোসেন নামের ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রের কানের পর্দা ফেটে গেছে। বিশাকোল গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে ইমন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে। 

রোববার বিকেলে এ বিষয়ে ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইমনের বাবা আবদুল মালেক।

আহত শিক্ষার্থী ইমন হোসেন সাংবাদিকদের জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে রুটিন অনুযায়ী শিক্ষক না থাকায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ নিজেই নবম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র ক্লাসে হাজির হন। শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা তখন চেঁচামেচি করছিল। সে (ইমন) তখন দাঁড়িয়ে সবাইকে চেঁচামেচি থামাতে বলে। এই বলাতেই প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হন। তার কাছে এসে মাথার চুল ধরে কানের ওপর বেশ কয়েকটি থাপ্পড় ও পিঠে তিন-চারটি কিল মারেন এবং বলেন, 'তুই বড় মাস্তান হইছিস'। এ সময় তিনি অশালীন ভাষায় আরও কিছু বকাঝকা করেন। এরপর তার ডান কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে প্রধান শিক্ষক নিজেই তাকে বাইরে নিয়ে তা ধুয়ে ফেলেন ও মাথায় পানি দেন। বিকেলের দিকে কানের ব্যথা বাড়লে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় সে। অবস্থার উন্নতি না হলে শুক্রবার নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ রফিকুল ইসলামকে দেখালে তিনি কানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। পরে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় ইমন।

ইমনের বাবা আবদুল মালেক বলেন, একজন শিক্ষক এভাবে আমার ছেলেকে মেরে কানের ক্ষতি করবে, এটা কখনও আমি আশা করিনি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

বিশাকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মজিদ বলেন, 'শ্রেণিকক্ষে বেয়াদবি করায় তাকে একটি থাপ্পড় মারা হয়েছে। কিন্তু সে ঘাড় ঘোরানোয় হয়তো থাপ্পড়টি কানে লাগে। আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছি। তার চিকিৎসার খোঁজ রাখছি।'

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। ইমনের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগটি তখনও তিনি হাতে পাননি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি তিনি জেনেছেন। আহত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।