ধর্ষণের শিকার নারীর থানায় বিয়ে: আওয়ামী লীগ নেতা ঘন্টু গ্রেফতার

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

পাবনা অফিস

আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টু

পাবনায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর থানায় বিয়ের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শরিফুল ইসলাম দাপুনিয়া ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। টেবুনিয়া ছিটগোডাউনের পাশে তার অফিসেই গৃহবধূকে তিনদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে। দুই দিন পর ৩১ আগস্ট তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে গণধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে পুলিশ রাসেলকে প্রথমে আটক করে। আর ওই নারীর রিকশাচালক স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সংবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।

ধর্ষণের মামলা না নিয়ে মীমাংসা করতে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে গৃহবধূকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানি হলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ। পরে সোমবার ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা করে পুলিশ।