গাইবান্ধার ৫ রাজাকারের ফাঁসির রায়ে মিষ্টি বিতরণ

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯      

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই রায় ঘোষণার পর গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়।

একই সঙ্গে রায়ে স্বস্তি ফিরে আসে শহীদের পরিবার, হামলা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি করেন তারা।

এর আগে সকালে গাইবান্ধা সদরের আব্দুল জব্বার মন্ডল, তার ছেলে জাছিজার রহমান ওরফে খোকা, আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, মোন্তাজ আলী ব্যাপারী ওরফে মমতাজ ও রনজু মিয়া নামের পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত।

মামলা সুত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে একাত্তরের ১৮ অক্টোবর পাকিস্তানিদের পক্ষ নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের নান্দিনা, দৌলতপুর, মিরপুর, সাহারবাজার, কাঁশদহ, বিসিক শিল্পনগরী, ভবানীপুর ও চকগয়েশপুর গ্রামের ২১ জনকে হত্যা, শতাধিক বাড়ি-ঘর লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, ইসলাম উদ্দিন এবং নবীর হোসেনসহ সাত নিরস্ত্র মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে সাহাপাড়া ইউনিয়নের তিন থেকে চারশ ' হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

প্রসিকিউশনের এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৫ মে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন গাইবান্ধার পুলিশ রনজু মিয়াকে গ্রেফতার করে। ২৯ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্র্রতিবেদন দাখিল করে। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক আসামি আজগর হোসেন খান মারা যাওয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

২০১৮ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলার বাদী সাহাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এ রায়। আমার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ ঘটনা। এখন এই রাজাকারদের দ্রুত ফাঁসি চাই।

আসামিরা গাইবান্ধা সদরের নান্দিনা ও চক গয়েশপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সবাই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে জানা যায়।