ইউপি সদস্যের ধর্ষণ, বিচার না পেয়ে বিধবার আত্মহত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯      

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর ডিমলায় ধর্ষণের বিচার না পেয়ে এক বিধবা নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের পূর্ব ছাতুনামা চরগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবার নামে ওই বিধবার বাড়িতে যান। বাড়িতে কেউ না থাকায় এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য ওই বিধবাকে ধর্ষণ করলে তার চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে ইউপি সদস্যকে আটক করেন। এরপর ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে কিছু প্রভাবশালী লোকজন তাকে বিধবার বাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই বিধবা ঘটনার পর দিন মামলা করার জন্য থানায় যেতে চাইলে পথে প্রভাবশালীরা তাকে বাধা দেয়। পাশাপাশি মামলা না করার জন্য হুমকি দিতে থাকে। পরে ধর্ষণের বিচার না পেয়ে শনিবার দুপুরে চর গ্রামের নিজ বাড়িতে ওই বিধবা আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রভাবশালী মহলটি পুলিশকে খবর না দেয়ার জন্য স্থানীয়দের হুমকি দিতে থাকে। পরে এলাকাবাসী জরুরি সেবার ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে ডিমলা থানা পুলিশ শনিবার সন্ধায় ওই বিধবার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও পূর্ব ছাতুনামা গ্রামের মৃত আব্দুল আমিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

জানা গেছে, ওই গ্রামের আব্দুল জলিল প্রায় দুই বছর আগে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মারা যাবার পর বিধবা স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। বাড়ির কিছুটা দূরে বিধবার দুইবোন নাসিমা ও নাজমা স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম কতৃক ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বিধবা জাহানারা বেগম আত্মহত্যা করেছেন।

ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। রোববার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মামলা করা হবে।