ক্যাপিটাল পেপার মিল বন্ধ, শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯   

পলাশ প্রতিনিধি

শ্রমিক কর্মচারীদের পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রেখেই নরসিংদীর পলাশের ক্যাপিটাল পেপার এন্ড পাল্ব ও ক্যাপিটাল বোর্ডের উৎপাদন মিল কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। 

বেতন ভাতা প্রদান ও মিল চালুর দাবীতে মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা প্রতিদিন মিলের ডিজিএম কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রেখেছে।

সরেজমিনে রোববার মিলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে শ্রমিক কর্মচারীরা ডিজিএম এর কার্যালয়ের সামনে বেতন ও মিল চালুর দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করছে। 

বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা জানান, ঈদুল আযহার ছুটিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ করার পর আজ অবধি মিলের উৎপাদন চালু করেনি মিল কর্তৃপক্ষ। কারখানায় কর্মরত ২০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী গত পাঁচ মাস যাবৎ বেতন ভাতা না পেয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। 

মিলের শ্রমিক ফিরোজ আক্তার জানান, বেতন না পেয়ে আমরা অতি কষ্টে ছেলে-মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি। তাছাড়া অনেক শ্রমিক রিক্সা, ভ্যান চালিয়ে তাদের সংসার চালাচ্ছে।

মিলের কর্মচারী সালাউদ্দিন জানান, চলতি মাসের বেতন সহ ৫ মাসের বেতন ও ৭ মাসের ওভার টাইম না দিয়েই মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় মিল কর্তৃপক্ষ। ফলে আমরা মিলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। 

মিল সূত্রে জানা যায়, ১৪০ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যাপিটাল পেপার এন্ড পাল্ব ও ক্যাপিটাল বোর্ডের ২টি গ্যাস সংযোগ ১টি জুলাই মাসে, অপরটি আগষ্ট মাসে ৭ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে মিল আদৌ চালু হবে কিনা তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবের-উল-হাই খান বলেন, মিলটি বন্ধ হওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়েছেন মিলে কর্মরত ২’শ শ্রমিক-কর্মচারী। এক সময় মিলটি ভাল চলতো। 

অবিলম্বে মিলটি চালু করার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া ভাতা পরিশোধ করার দাবি জানান তিনি। 

মিলের ডিজিএম মীর আলী জানান, নভেম্বর মাসের ২১ তারিখে মিলের গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে এবং মিলটি চালু করারও চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। মিলের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে মিলটি লোকসানের মধ্যে পরেছে।