ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, আটক ৩

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯      

বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারের ব্যবসায়ী হাজী মো. হুমায়ূন কবির মেম্বারকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। 

রোববার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের আকাবপুর গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুন নিমসার বাজারের ব্যবসায়ী হাজী হুমায়ূন কবির মেম্বারকে ফাঁসানোর জন্য গত ১৫ অক্টোবর এক লাখ টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রামে এক তরুণীকে ভাড়া করেন। ভাড়া করা তরুণীকে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন মামুন ও তার সহযোগীরা। পরে ওই তরুণী চট্টগ্রাম কোতয়ালী থানায় হুমায়ূন কবির মেম্বার ও ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে মামলা দায়ের করতে যান। 

চট্টগ্রাম কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন।

ফুটেজে হোটেল কক্ষে তরুণী ও দুই ব্যক্তিকে দেখা গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বয়সের সঙ্গে মেলে না। সারাদিনের ফুটেজ চেক করলেও সেখানে বয়স্ক কারও আসা-যাওয়া দেখা যায়নি। এরপর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানোর জন্য তরুণীটিকে থানায় আসতে বলেন ওসি। এসময় তার সঙ্গে আসে এক ছেলে। তরুণীটির সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে ছেলেটির সঙ্গে গল্পের ছলে কথা বললে আগের ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে ব্যাপক অমিল ধরা পড়ে। এতেই সন্দেহ জাগে পুলিশের। এরপর তাদের পৃথক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সবকিছু স্বীকার করে ছেলেটি। 

এ নিয়ে চট্টগ্রাম কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহসীন তার ফেসবুক একাউন্টে লিখলে হুমায়ূন কবির মেম্বার বিষয়টি জানতে পারেন।

ওসি তার ফেসবুকে লিখেন, ‘কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার বাজার নিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কবির হোসেন ও তার ভাতিজা শাহ আলমের সঙ্গে বিরোধ আছে স্থানীয় বাসিন্দা মামুনের। কবির ও শাহ আলমকে ‘শিক্ষা’ দিতেই চট্টগ্রামের তরুণীকে ভাড়া করেন মামুন। চুক্তি হয় এক লাখ টাকার। ধর্ষণের মামলা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয় তাই ঠিক করেন আবাসিক হোটেল। ঝুঁকি এড়াতে ভিন্ন দু’জনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ‘ধর্ষিত’ হয়। তবে তাদের চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত খুলে যায়। প্রকাশ হয়েছে পুরো ঘটনা। গ্রেফতার হয়েছে তিনজন। মামুন পলাতক থাকলেও গ্রেফতার হবে যেকোনো সময়ই।’

পুলিশের দক্ষতায় এবারের মতো রক্ষা পেলেও ভবিষ্যতে কবির হোসেনকে নিয়ে আরও ষড়যন্ত্র করতে পারে ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুন- এমনটাই আশঙ্কা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। তাই দ্রুত ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুনের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

পরে নিমসার কলেজ মাঠে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন-হাজী হুমায়ুন কবির মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুর ইসলাম, মো. হেলাল, মো. জাকির হোসেন মুন্সি, রুহুল আমীন ভূইয়া, ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, মো. স্বপন, রাজ্জাক মিয়া, রিপন মিয়া, আয়েত আলী, এয়াছিন, নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন, নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসরাফিল নিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল রিয়াদ কাউসার প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মামুনের বাড়ি থেকে সম্প্রতি পুলিশ দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এছাড়া ২০১৮ সালের রমজান মাসে ৬৫ হাজার ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো মামুনের দুই সহোদর। এসময় তিনি গ্রেফতার এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।