ভোলার ঘটনায় বিপ্লব বৈদ্যসহ ৩ জন কারাগারে

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রোববার সংঘর্ষের সময় তোলা ছবি

ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে রোববার ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় 'তৌহিদী জনতা'র সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আটক বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য, ইমন ও শরীফ ওরফে শাকিলকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ভোলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ফরিদ আলম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো তিনজনের মধ্যে শাকিলকে রোববার পটুয়াখালীর গলচিপা এবং ইমনকে কাচিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যকে স্থানীয় আলেমদের দাবির মুখে মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। 

অন্য ৭-৮জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে 'পরস্পর যোগসাজশে' ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি এবং তা ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানায় এসআই দেলোয়ার হোসেন রোববার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা দায়ের করেন।

আদালতের একজন কর্মকর্তা জানান, বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য ও শাকিলের মেসেঞ্জারে 'ধর্মীয় অবমাননাকর' বার্তাগুলো পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের খারাকান্দি গ্রামের চন্দ্র মোহনের ছেলে। ইমনের বাড়ি উপজেলার উদয়পুর এলাকায়। আর শাকিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের নূরে আলমের ছেলে ও কলাপাড়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্টোরকিপার।

ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ‌বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যের বিচারের দাবিতে রোববার ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তৌহিদী জনতা। এ সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগেই তারা মাইকিং করে। পরে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল নয়টা থেকে লোকজন জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান নিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে তারা। একপর্যায়ে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।

রোববার ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বোরহানউদ্দিনে সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন নিহত হয়।