বাগেরহাটে বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, দালালের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট

সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া ও নানা অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এ সময় এক দালালকে আটক করে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে সোমবার বিকেলে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার একটি টিম এ অভিযান চালায়। এ সময় মিঠু মিয়া নামের এক দালালকে আটক করে দুদক। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ। মিঠু মিয়া ফরিদপুর জেলার টেবাখোলা বিড়ি ফ্যাক্টরি এলাকার মো. তারা মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অপরাধে বিআরটিএ জেলা কার্যালয়ের সিল মেকানিক মজিবর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ।

দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে বিআরটিএ অফিসে অভিযানকালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন দুদুকের খুলনা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নীলকমল পাল, খন্দকার কামরুজ্জামান ও উপসহকারী পরিদর্শক মনিরুজ্জামান।

নাজমুল হাসান বলেন, হটলাইনে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে বাগেরহাটের বিআরটিএর জেলা কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য আসি। আমরা বাগেরহাটে পৌঁছে সেবাগ্রহীতা সেজে মিঠু মিয়াকে ফোন করি। পরে মিঠু আমার কাছে টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে রাজি হলে মিঠু অফিসের সামনে আসে টাকা নিতে। মিঠু দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া সিল মেকানিক মুজিবুর রহমান ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়। আমাদের সম্মুখে মুজিবুর রহমান তিনজনকে টাকা ফেরত দিয়েছে।

অভিযানের সময় বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতা ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ বন্ধ, কার্যালয়ের সামনে থেকে মিঠুর দোকান অপসারণ এবং কার্যালয়ের সামনে সিটিজেন চার্টার টানানোর সুপারিশ করেছে দুদক।