চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের 'ডেঙ্গু কর্নার'কে 'ডায়রিয়া কর্নার' ঘোষণা

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৯      

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকছেন। তিনদিনে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ 'ডেঙ্গু কর্নার'কে 'ডায়রিয়া কর্ণার' ঘোষণা করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও এর মেঝেতে রোগী সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতাল কতৃপর্ক্ষ ডেঙ্গু কর্ণারকে আপাতত ডায়রিয়া কর্ণার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সেখানে রোগীর চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাদিম সরকার জানান, গত বুধবার থেকে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ১১৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৪৭ জন রোগী ভর্তির পর বর্তমানে ১৬১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আক্রান্তরা জানান, নবাবগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওর্য়াডের দারিয়াপুর, হরিপুর, নামোনিমগাছী ও উপর রাজারামপুর এলাকায় পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, পৌরসভার সব জনগোষ্ঠী এ পানি পান করে। পানি খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে পুরো পৌরসভার এলাকাবাসী এতে আক্রান্ত হতো।

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, ‘আতঙ্কের কিছু নেই। সুষ্ঠুভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কলেরা স্যালাইনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।’ তিনি সবাইকে টিউবওয়েলের অথবা ফোটানো পানি পান করার পরামর্শ দেন।

এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এলাকার পানি পরীক্ষার জন্য রাজশাহী ল্যাবে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত রির্পোট তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী।

নবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সাপ্লাই পানি থেকে এ সমস্যা হলে পৌর এলাকার অন্যান্য মহল্লাবাসীও আক্রান্ত হতো।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এলাকায় তিনটি টিম পাঠানো হয়েছে। মাইকিং করে পানি ফুটিয়ে পান করার জন্য বলা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার ২টি বাড়ির ভেতরে ২টি পানি সাপ্লাই লাইনে লিকেজ পাওয়া গেছে, যা ইতিমধ্যেই ঠিক করা হয়েছে। এছাড়াও ৪ থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত যে ৩টি গভীর নলকূপ রয়েছে সেগুলোর পাশের রির্জাভ পানির ট্যাংকগুলোতে ব্লিচিং ছিটিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ করা হয়েছে।’