হাটহাজারীতে ফের ডাকাতি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯      

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মাত্র ৫দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ৩টার দিকে ফরহাদাবাদ ইউইনিয়নের পশ্চিম মন্দাকিনী হারু চাঁদ মুন্সী বাড়ির প্রবাসী শাহ আলম ও দিদারের ভবনে এই ডাকাতি সংগঠিত হয়।

পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ১০-১২জন মুখোশ পরিহিত সশস্ত্র ডাকাত কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রশি দিয়ে বেঁধে লুটে নেয় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০ হাজার টাকা ও ৬টি স্মার্ট ফোন। 

এর আগে গত বুধবার গভীর রাতে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বংশাল এলাকার গুন্নু মিয়া সারাং বাড়ির শাহ আলমের ভবনে একই কায়দায় ডাকাতি সংগঠিত হয়। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৮-১০ জনের ডাকাতদল ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা ও ৪টি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়। 

এছাড়াও গত ৫ অক্টোবর গভীর রাতে ধলই ইউনিয়নের সোনাইরকুল এলাকার সাহেব মেম্বারের বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়। মুখোশ পরিহিত ৪০-৫০ জনের ডাকাত দল তাদের ভবনের লোহার গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অস্ত্র, ছুরি, রামদা, কিরিচ হাতে নিয়ে ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ২০ ভরি স্বর্ণ, ১২টি মোবাইল ও নগদ এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এসব ঘটনার থানায় মামলা হলেও অদ্যাবধি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত কিংবা আটক করা যায়নি। মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে উত্তর হাটহাজারীতে তিনটি ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শাহ আলম ও দিদারের পরিবারের সদস্যরা জানায়, বর্তমানে শাহ আলম ও দিদার উভয়ই প্রবাসে অবস্থান করছেন। রাত ৩টার দিকে মুখে মুখোশ, হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত ১০-১২ জন ডাকাত কলাপসিবল গেইটের তালা ভেঙে তাদের ১ তলা ভবনে প্রবেশ করে। আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, ছুরি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ সময় তারা নারীদের মারধর করে ৫ ভরি স্বর্ণলংকার, নগদ ২০ হাজার টাকা ও ৬টি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।

কাতার প্রবাসী দিদারের স্ত্রী লুৎফর নাহার খুকি (৪০) বলেন, ডাকাতরা অস্ত্র দিয়ে আমাদের জিম্মি করে। তারা আমাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয়। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে পড়ুয়া আমার ছেলে তামিমের মোবাইলটি না নিতে অনুরোধ করলে তারা আমাকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে জখম করে।

দুবাই প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৪২) বলেন, ডাকাতদল আমার কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। স্বর্ণালংকার না পাওয়ায় ডাকাতদলের এক সদস্য আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়াকে দুইটি থাপ্পড়ও দেয়। আমাদের সবাইকে একটি রুমের মধ্যে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে চলে যায়।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সমকালকে বলেন, রাত্রিকালীন পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপরও সীমান্তবর্তী এলাকায় তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে।