প্রেমিকার ভাইদের প্রতিহিংসার বলি নেত্রকোনার বকুল

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০১৯      

ময়মনসিংহ ব্যুরো

ছবি: সমকাল

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদ-তীরবর্তী ব্রিজের কাছে সন্দেহজনক ট্রলিব্যাগে পাওয়া যুবকের খণ্ডিত লাশের পরিচয় ও হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মো. বকুল (২৮)। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমঘটিত কারণে প্রেমিকার ভাইদের প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন বকুল। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সহোদর তিন ভাই-বোন ও এক ভাইয়ের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স দরবার হলে বুধবার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বকুলের প্রতিবেশী বাবুল মিয়ার মেয়ে সাবিনার (১৮) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের এ সম্পর্ক মেনে না নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সাবিনাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। সাবিনার বিয়ের পরও বকুল তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে বকুলের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল সাবিনার ভাইয়েরা। তারা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার বাঘেরবাজার বানিয়ারচালায় লিটন ঢালীর বাসায় ভাড়া থাকত। সেখানেই বকুলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২০ অক্টোবর সাবিনা, তার দুই ভাই ফারুক মিয়া (২৫) ও হৃদয় মিয়া (২০) ও ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মিলে বকুলকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং মাথা আলাদাসহ দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে। পরে লাশের টুকরো পলিথিনে মুড়িয়ে দুটি ট্রলিব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে চারজনই ময়মনসিংহে এসে পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র নদের ব্রিজের পাশে একটি লাল ট্রলিব্যাগ রেখে যায়। অন্য ব্যাগটি নিয়ে সাবিনা ও মৌসুমী কুড়িগ্রাম চলে যায়। তারা সেখানে দুটি পৃথক স্থানে খণ্ডিত দেহ ফেলে পুনরায় গাজীপুরের বানিয়ারচালায় ফিরে আসে। 

মৌসুমী কুড়িগ্রামের কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়া গ্রামের মোজাফর আলীর মেয়ে। পুলিশ সুপার আরও জানান, ময়মনসিংহ নগরীর ব্রিজের কাছে লাল ট্রলিব্যাগ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ব্যাগের আকার ও ওজন সন্দেহজনক হওয়ায় ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়কারী ইউনিটের সদস্যরা এসে ব্যাগ খুলে হাত-পা ও মাথাবিহীন ধর (দেহ) উদ্ধার করেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সদর উপজেলায় একটি পা উদ্ধারের খবর জানান। পরদিন ১০ কিলোমিটার দূরে কুড়িগ্রামের রাজাপুরে একটি ব্যাগে কাটা পা, দুটি হাত ও ভ্যানিটি ব্যাগে একটি চিরকুটসহ মাথা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও ভীতির সৃষ্টি হয়।

ময়মনসিংহ পুলিশ বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করে। সিসি ক্যামেরার ছবি ও চিরকুটের সূত্র ধরে ময়মনসিংহ ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, এসআই আক্রাম, জুয়েলসহ পুলিশ নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও গাজীপুরের বানিয়ারচালায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মিয়া, হৃদয় মিয়া, বোন সাবিনা এবং ফারুকের স্ত্রী মৌসুমীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী পূর্বধলার সুতারপাড় থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, মোবাইল, ব্যাগ ও ইট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।