নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯      

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার ভোরে ওই শিক্ষার্থী কৌশলে পালিয়ে এসে মা-বাবাকে বিষয়টি জানায়। শিশুটিকে নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম হাসপাতালে নির্যাতিত শিশুটিকে দেখতে যান। পরে পুলিশ অভিযুক্তের বাবা এখলাস মিয়াকে আটক করে।

শিশুটির স্বজনরা জানান, সোমবার রাতে শিশুটির নানীর সঙ্গে পাশের মহল্লায় ধর্মীয় সভা (ওয়াজ মাহফিল) শুনতে যায়। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ধর্মীয় সভা থেকে কয়েকজন বখাটে মেয়েটি জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর একটি ঘরে হাত-পা, মুখ বেঁধে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে শিশুটির পরিবার পরদিন নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করে।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ৩৩নং বেডে চিকিৎসাধীন শিশুটি জানায়, ভাজনীপাড়া গ্রামের একলাস মিয়ার বখাটে ছেলে পিয়েল মিয়া (২৫) সহ আরো দুইজন তাকে ধর্মীয় সভা (ওয়াজ মাহফিল) থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পিয়েল একটু দূরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তার হাতে কিছু টাকা গুঁজে দেয়। এসময় তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। সে রাজি না হওয়ায় তার মুখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে মুখ ও হাত পা বেঁধে ঘরের মাচায় ফেলে রাখে। সারাদিন এভাবে সেখানে সে পরে থাকে। পরদিন সন্ধায় তাকে সেখান থেকে বের করে ঘরের মাচার নীচে মাটিতে ফেলে রাখে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্না ভেঙে পরে শিশুটি।

ওই শিশুর বাবা জানান, ভাজনীপাড়া গ্রামের এখলাস মিয়ার বখাটে ছেলে পিয়েল মিয়া (২৫) তার মেয়েকে অপহরণ করে একটি ঘরে দুইদিন আটকে রাখে। রাতে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে পিয়েল। দীর্ঘদিন ধরেই পিয়েল তার মেয়েকে উত্যক্ত করতো। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তিনি। 

লক্ষিপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও ভিকটিমের চাচি ও নানি জানান, ওই অপহরণকারী বাড়িতে মেয়েকে খুঁজতে গিয়েছেন, ওদের সাথে যে কথা বলেছে তাও ওই শিশু শুনেছে। কিন্তু মুখে ও হাত পায়ে বাঁধা থাকায় কথা বলতে পারেনি। 

নসীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই শিশুটি তার বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। শিশুটির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তার বিচার না হলে শিশুরা ভয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেবে।

নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ছেলের বাবা এখলাস মিয়াকে জ্ঞিাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) এসএম আশরাফুল আলম জানান, শিশুটি তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে সে জানিয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।