রিফাত হত্যা: প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৯   

বরগুনা প্রতিনিধি

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজীর ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ধার্য তারিখে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাত ফরাজীর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। কিন্তু মামলার মূল নথি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকায় এ বিষয়ে শুনানি হয়নি। এ ছাড়া মামলার পরবর্তী তারিখ ৬ নভেম্বর ধার্য করেছেন বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ। 

রিফাত ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। এই মামলায় রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজীও অন্যতম আসামি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। এ জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে বরগুনা কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা এই মামলায় প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ও আরিয়ান হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। মামলার বাকি ১৩ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকায় তাদের হাজির করা হয়নি।

সূত্র জানায়, বিচারক এই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর আসামিদের বিচার কার্যক্রম শুরুর জন্য মামলার মূল নথি বরগুনার শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ ৬ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। প্রধান আসামি রিফাত ফরাজীর জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনটি তার আইনজীবী আদালতে জমা দিলেও প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলার মূল নথি জেলা জজ আদালতে থাকায় এর শুনানি হয়নি।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাসহ ২৪ জনকে আসামি করে এই মামলায় প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়ে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে এই মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় তাকে এই মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।

রিফাত ফরাজীর আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ নির্যাতন করে এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে রিফাত ফরাজীকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। এ কারণে আমরা তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।

নয়ন বন্ডকে রিফাত ফরাজীর সামনেই ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের বিচারের জন্য বরগুনার শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু অভিযুক্তদের মামলার পরবর্তী তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ নভেম্বর।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম মজিবুল হক কিসলু জানান, রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা আদালতের হেফাজতে রয়েছেন। তাই বিচারের জন্য মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রিফাত হত্যা মামলার আসামি কামরুল হাসান সাইমুনের আগামী ১১ নভেম্বর একটি পরীক্ষা আছে। ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন সাইমুন। সাইমুনের পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত সাইমুনকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবেন।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। পরের দিন নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক- দুই ভাগে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত ২৪ আসামির মধ্যে আটজন বরগুনা জেলা কারাগারে এবং ১৩ জন যশোর শিশু ও কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। এ ছাড়া দুই আসামি জামিনে রয়েছে। আরেকজন পলাতক।