নাটোরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি পোড়াল দুর্বৃত্তরা

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

নাটোর প্রতিনিধি

পুড়ে যাওয়া বসতবাড়ি- সমকাল

নাটোর শহরের ঝাউতলা বস্তি এলাকায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিনের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় পাশের রিকশাচালক আবদুল মজিদের বাড়িও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অভিযোগ, শহরের কান্দিভিটা এলাকার বাসিন্দা যুবলীগ কর্মী নাজমুল শেখ বাপ্পী ওরফে হাড্ডি বাপ্পী ও তার সহযোগীরা প্রাইভেট কারে করে এসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। হাড্ডি বাপ্পীর নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এ আগুন দিয়েছে। তবে বাপ্পী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মুক্তিযোদ্ধা নাসিরের ছোট ছেলে পরিবহন শ্রমিক ও ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগ প্রচার সম্পাদক আকরাম উদ্দিন বলেন, যুবলীগ কর্মী বাপ্পী নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে আমাদের এলাকায় এসে আধিপত্য বিস্তার করে। তারা নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অবৈধ দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে নির্যাতন করে তারা। তিনি নিজে এসবের প্রতিবাদ করায় তাকেসহ তার পরিবারের সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল হাড্ডি বাপ্পী ও তার সহযোগী মামুন,কালু, নির্জন, কাওছার, আকাশ, মকলেস, শাকিল ও আশরাফুল। শুক্রবার রাতে হাড্ডি বাপ্পী ও তার দল প্রাইভেটকারে এসে আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে যায়। আগুন থেকে বাঁচতে তিনি ও তার পরিবার প্রাচীর টপকে পাশের হর্টিকালচার সেন্টারে আশ্রয় নেন।

মুক্তিযোদ্ধা নাসিরের স্ত্রী অকলিমা বেগম বলেন, আগুনে তার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও জমির দলিল, এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সোনার গহনা, একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় আট লাখ টাকার মালপত্র পুড়ে গেছে। তারা এখন এক কাপড়ে খোলা আকাশের নিচে সময় পার করছেন।

অভিযুক্ত যুবলীগ কর্মী নাজমুল শেখ বাপ্পী বলেন, আমি ও আমার সমর্থকরা এ ধরনের নোংরা ও নৃশংস কাজ করতে পারি না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে ও আমার অনুসারীদের বিপদে ফেলতে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তদন্ত হলেই সত্যতা বের হয়ে আসবে।

নাটোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম ও লিডার মখলেছুর রহমান বলেন, ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। আগুনে ওই দুটি বাড়ির আটটি ঘরসহ ছয় লক্ষাধিক টাকার মালপত্র পুড়ে গেছে। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত- এমন রিপোর্ট আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তুজা আলী বাবলু বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে ছাড়া পাবে না। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় যেই জড়িত হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।