মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, সাতক্ষীরায় আশ্রয়কেন্দ্রে লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯   

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত থেকে বাঁচতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন মানুষরা-ফোকাস বাংলা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত থেকে বাঁচতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন মানুষরা-ফোকাস বাংলা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার দিনভর সাতক্ষীরায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই ছিল দমকা হাওয়া। দুপুরে উপকূলীয় এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণার পর থেকেই এ জেলায় জনমনে আতঙ্ক বেড়ে যায়। এদিকে সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করলেও গ্রামবাসী অনেকে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে রাজি হচ্ছিল না। পরে পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তায় অনেককে জোর করেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। জেলার ২৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুপুরের পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ক্রমেই ঝড়ো হাওয়া বাড়ছিল। সন্ধ্যার আগেই নেমে আসে অন্ধকার। সঙ্গে বাড়ে বৃষ্টির বেগ। সুন্দরবন এলাকার নদ-নদীতে পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গ্রামবাসীকে একরকম জোর করেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। সুন্দরবন থেকে জেলে, মাঝি, বাওয়ালি ও শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, জেলার তিনটি উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জে ২৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৫২টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানুষের জীবন রক্ষাই প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপথ্য মজুদ রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এবং নৌ ও জলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ব ও দুর্যোগ-পরবর্তী কাজে অংশ নিতে এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০০ সদস্যের টিম শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন গাবুরা থেকে গ্রামবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছিল না। তবে দুপুরের পর থেকে তারা বাড়ি ছাড়তে রাজি হয়। পরে এলাকার ২৬টি সাইক্লোন শেল্টার ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্যোগকবলিত লোকজনকে সরিয়ে আনা হয়।

তিনি জানান, একই উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ৯টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুসংখ্যক স্কুল-কলেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, ২৬টি সাইক্লোন শেল্টারসহ ১০৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন সরিয়ে আনা হয়েছে।