কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা

স্বামীর মৃত্যুর ৫ দিন পর মারা গেলেন স্ত্রীও

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯      

মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

দুই ট্রেনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে

স্বামীর কুলখানি শেষে চট্টগ্রামে ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন স্ত্রীও।

সোমবার রাতের এই ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় শ্রীমঙ্গলের জাহেদা খাতুনের (৪৫)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন জাহেদার মা ও তার তিন সন্তান। তাদের বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার গাজীপুর এলাকার রামনগরে। 

জাহেদার ননদ হাসিনা খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার গাজীপুর এলাকার রামনগরের মুসলিম মিয়া পরিবার পরিজন নিয়ে কর্মসূত্রে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বসবাস করতেন। জাহাজকাটা শিল্পে কাজ করতেন তিনি। 

জাহাজ কাটার সময় গত ৭ নভেম্বর তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বামীর কুলখানির অনুষ্ঠান করতে তার স্ত্রী জাহেদা দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলের বাড়িতে আসেন। 

অনুষ্ঠান শেষে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে করে তারা চট্টগ্রাম ফিরছিলেন। 

রাত পৌনে ৩টার দিকে কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জাহেদার। 

এ দুঘর্টনায় আহত হন জাহেদার বড় ছেলে ইমন (১৭), মেয়ে সুমী (১৯), মীম (৮) ও মা সুরাইয়া খাতুন। তাদের মধ্যে ইমন ও সুরাইয়া খাতুনের দুই পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) পাঠানো হয়েছে। দুই মেয়ে সুমী ও মীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই পরিবারের আরেক সদস্য সুমন ভিন্ন বগিতে থাকায় সুস্থ আছেন বলেন জানান হাসিনা খাতুন। 

সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা আর সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।