দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিকেলে সংঘর্সে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ -সমকাল

দুই পক্ষের সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। 

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরের লালদিঘী মাঠে কাউন্সিলর মোবারক আলী ও ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দু’পক্ষের চেয়ার ছোড়াছুড়িতে ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু। তখন মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারীরা। এ সময় মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন মোবারক আলীর অনুসারীরা। তারা সামনের দিকে যেতে চাইলে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি শুরু করেন তারা। পরে পাল্টা ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন। এ সময় কাউন্সিলর মোবারক আলীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। মঞ্চ থেকে নেতারা সংঘর্ষে লিপ্ত কর্মীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে যান। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর মোবারক আলী সমকালকে বলেন, মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করছিলাম। মিছিলের সামনে ২০-৩০ জন নারী ছিল। তাদের অনুষ্ঠানস্থলের সামনে দিকে জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল মিছিলে থাকা কর্মীরা। এসময় আগে থেকে অনুষ্ঠানে বসা ওয়াসিম ভাইয়ের অনুসারীদের সঙ্গে আমার অনুসারীদের ভুল বুঝাবুঝি হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। আমি এবং ওয়াসিম ভাই তাদেরকে নিবৃত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। চেয়ারের আঘাতে আমি নিজেও আহত হয়েছি।     

নগর পুলিশের উপ কমিশনার(দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মারামারিতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ প্রসঙ্গে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ সমকালকে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ধরণের বিশৃঙ্খলা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। তারা যদি আমাদের সংগঠনের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী হন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি কোন অনুপ্রবেশকারী হয়, তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেওয়া হবে।