রামুর আঁধার মানিক গুহার গুপ্তরহস্য উন্মোচনে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শনিবার উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা এলাকায় অবস্থিত এ গুহার জরিপ ও অনুসন্ধান উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও মহেশখালী উপজেলার প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের রামু উপজেলা সদর থেকে আধঘণ্টার দূরত্বে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে উখিয়ার ঘোনায় এই গুপ্ত গুহা। কথিত আছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এই 'আঁধার মানিক গুহা' প্রায় সাড়ে তিনশ' বছরের প্রাচীন নিদর্শন। স্থানীয়দের কাছে এটি 'কানা রাজার সুড়ঙ্গ' নামেও পরিচিত। ৪০০ মিটার দীর্ঘ এই গুহা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত। বলা হয়, আরাকান রাজা চিন পিয়ান ব্রিটিশদের কাছে রাজ্য হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবনের শেষ সময়ে রামুর পাহাড়ে গুপ্ত গুহা খনন করে লুকিয়ে থাকতেন। তার এক চোখ অন্ধ ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অন্ধকার রাতে ওই গুহার ভেতর থেকে আলো দেখা যেত, মানিকের মতো আলো জ্বলত বলেই এটি 'আঁধার মানিক গুহা' নামে পরিচিতি পায়।

ওই গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা এমদাদ মিয়া জানান, গুহার ভেতরে একটি মঞ্চ বা ধ্যানস্থান রয়েছে। ১০০ ফুটের মতো ভেতরে গেলেই আরও তিনটি গুহার পথ দেখা যায়। গুহার দেয়ালে নানা ছবি আঁকা। তাদের ধারণা, এ গুহা দিয়ে প্রবেশ করে অন্য কয়েকটি গুহা দিয়ে বের হওয়া যায়। বহু বছর আগে বৌদ্ধদের চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবে মিয়ানমারসহ আশপাশের রাখাইন ও বৌদ্ধ নারী-পুরুষ এ গুহা দেখতে আসত এবং মোমবাতি জ্বালাত গুহার মুখে। তাই সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে এ গুহা হতে পারে পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উদ্যোগে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানকাজ পরিচালনা করা হবে। এই সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান, অধ্যক্ষ আবদুল হক, সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, আ ন ম হেলাল উদ্দিন, শামসুল আলম চেয়ারম্যান, নুরুল হক কোম্পানী, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, এম সুলতান আহমদ মনিরী ও রিয়াজুল কবির বিবণ। 

সাংবাদিক সোয়েব সাঈদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন তানভীর সরওয়ার রানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কামাল হোসেন। প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান টিমে রয়েছেন ফিল্ড অফিসার মো. শাহীন আলম, সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, গবেষণা সহকারী মো. ওমর ফারুক, সার্ভেয়ার চাইথোয়াই মারমা, পটারি রের্কডার ওমর ফারুক ও লক্ষ্মণ দাস।