সঙ্কটের গুজবে বস্তা বস্তা লবণ কিনছে মানুষ

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯      

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

লবণের বস্তা কিনে বাড়ি ফিরছেন এক নারী -সমকাল

সারা দেশের মতো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে লবণের দাম বাড়ানোর গুজব। এ খবরে ছড়িয়ে পড়লে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে মুদির দোকানগুলোতে। দল বেঁধে গ্রামের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে শহরের পাইকারি দোকানগুলোতে। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সকল দোকানের মজুদকৃত লবণ। দাম বাড়ানোর আশংকায় বাড়তি লবণ কিনে মজুদ করছেন সাধারণ ক্রেতারও। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দামে লবণ বিক্রি করছেন।  

মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে লবণের দাম বাড়ছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে মুক্তাগাছার সর্বত্র এলাকায়। খবরে গ্রাম থেকে দল বেঁধে লবণ কিনতে আসেন শহরের পাইকারি দোকানগুলোতে। দিনভর নাপিতখোলা মোড়, দরিচারআনি বাজার ও তামাক পট্রি এলাকায় প্রতিটি পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে লবণ ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। দাম বাড়ার আশংকায় বস্তায় বস্তায় লবণ কেনেন সাধারণ ক্রেতারাও। মানুষের হাতে হাতে দেখা যায় লবণের প্যাকেট। এতে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সকল মুদির দোকানের লবণ। 

এদিকে মানুষের মুখে মুখে লবণের দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাজারগুলোতেও লবণ কেনার ভিড় জমে। এ সুযোগে পাইকারি ও খুচরা দোকানদাররা হঠাৎ করেই লবণের দাম বাড়িয়ে দেন। তামাকপট্টির পাইকারি দোকানদার বকুল মিয়া বস্তায় ২শ’থেকে তিনশ’টাকা বাড়তি দামে লবণ বিক্রি শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাঁধার মুখে দোকান বন্ধ করে দেন। বিকেলে ইউএনও সুবর্ণা সরকার ও থানার ওসি আলী মাহমুদের নেতৃত্বে বিভিন্ন লবণের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। 

শহরের তামাক পট্টির পাইকারি দোকানদার দীপন সাহা সমকালকে বলেন, তারা আগের দামেই লবণ বিক্রি করছেন। তবে সকাল থেকে তার দোকানে লবণ কেনার ভিড় জমে। 

তিনি আরও বলেন, আগে যারা এক প্যাকেট কিনতেন, এখন তারাই ২০ থেকে ৩০ কেজি লবণ কিনে নিচ্ছেন। এভাবেই সারাদিন তার দোকানে লবণ কিনতে ক্রেতারা ভিড় করেন।  

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, লবণের দাম বাড়েনি, লবণের মজুদও রয়েছে প্রচুর। এর পরও কেউ কেউ মিথ্যা গুজবে ছড়িয়ে লবণ সংকট সৃষ্টি করছে। জড়িতদের সনাক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।