দিনাজপুর

ধানের জেলায় বেড়েছে চালের দাম

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর

ধানের জেলা দিনাজপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চালের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। আমন ধান ওঠার এই মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলছেন তারা। মিল মালিকরা চালের দাম বৃদ্ধি করায় বাজারে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে আড়তদার ও মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই বেড়েছে চালের দাম।

দিনাজপুরের পাইকারি বাজার বাহাদুরবাজার এনএ মার্কেটে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বিআর-২৮ জাতের চাল ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা কেজি। একইভাবে মিনিকেট চাল ৩৮ টাকার স্থলে ৪৫ টাকা, গুটি স্বর্ণ ২৫ টাকার স্থলে ২৮ টাকা, চিকন জাতের জিরা চাল ৯৫ টাকার স্থলে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সব ধরনের চালে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর কেজিপ্রতি বেড়েছে দুই থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। হিসাব অনুযায়ী, ৫০ কেজির বস্তায় চালের দাম বেড়েছে গুটি স্বর্ণে ১০০-১৫০ টাকা, বিআর-২৮ ও ২৯ জাতের চালে ১৫০-২০০ টাকা, মিনিকেট চালে ৪০০-৪৫০ টাকা ও জিরা চালে ৫০০-৭৫০ টাকা।

চাল কিনতে আসা ক্রেতা সুকুমার সরকার বলেন, এভাবে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। পেঁয়াজের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির দাম বেশি। সেগুলো বাদ দিয়ে বাজার করলেও চাল ছাড়া তো আর খাওয়ার মতো কিছু নেই। চালের খুচরা, পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, মিলাররা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেশি দামে চাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাও কমে গেছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে আড়তদার ও মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের জোগান কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়মূল্য ঘোষণায় ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বেড়েছে চালের দাম।

বাহাদুরবাজার এনএ মার্কেটের বিকে চাউল ঘরের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ কু ু জানান, বর্তমানে বোরো চালের মৌসুম শেষ পর্যায়ে। এ কারণে চালের দাম বেশি।

মৌসুমি চাল বিতানের স্বত্বাধিকারী প্রদ্যুৎ সরকার বলেন, সামনে নতুন ধান বাজারে উঠবে, তখন চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন বলেন, বর্তমানে যে চাল বাজারে সেটি বোরো আবাদ এবং এই ধান শেষ পর্যায়ে। প্রান্তিক কৃষকের কাছে এই ধান নেই, বড় কৃষকের কাছে আছে। তা ছাড়া আমন মৌসুমে ধান ক্রয় সংগ্রহ অভিযানের মূল্য ঘোষণা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে, ক্ষেত্রবিশেষে বাজারে ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। তাই চালের দাম বেড়েছে। আর কয়েকদিন পরই আমন ধান উঠবে। যদি বর্তমান বাজারের দাম অব্যাহত থাকে তাহলে কৃষকরা সঠিক মূল্য পাবেন এবং লাভবান হবেন। পাশাপাশি মিলাররাও লাভবান হবেন।