বরিশালে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হাতাহাতি

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

সমাবেশের শুরুতে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে- সমকাল

দীর্ঘদিন পর বরিশালে বিএনপি উন্মুক্ত সমাবেশ করতে পেরেছে। শনিবার নগরীর অশ্বিনী কুমার হল-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় চত্বরে পেঁয়াজসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশ হয়। 

তবে সমাবেশের শুরুতে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান বক্তৃতা করার সময় তার অনুসারীরা স্লোগান দেওয়ার সময় হামলা করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠুর লোকজন। মিঠু মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী। পরে সিনিয়র নেতারা মঞ্চ থেকে নেমে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এদিকে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, জিয়াউর রহমান বাকশাল বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাকশাল বিলোপ হওয়ায় আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। এখন তারা ওই দিনগুলোর কথা ভুলে গিয়ে জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। দেশে আবার বাকশাল ফিরিয়ে আনতে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বন্ধুরাষ্ট্র ভারত এখন পেঁয়াজ দিচ্ছে না। ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিয়েছে। ফেনী নদী থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে। সরকার দিশেহারা হয়ে এখন পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আনছে। তাতে দোষ হচ্ছে না। বিএনপি পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আনলেই দোষ হতো।

সভাপতির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, সামনে আন্দোলনের দুটি পথ আছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা সরকার পতনের একদফা দাবি। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া না হলে আমরা দ্বিতীয়টি বেছে নেব।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল জেলা দক্ষিণের সভাপতি এবায়দুল হক চান, উত্তর জেলা সভাপতি মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, আবুল হোসেন খান, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, আনোয়ারুল হক তারিন প্রমুখ।