নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বিএসএফের চৌকি নিয়ে উত্তেজনা

প্রতিবাদ বিজিবির

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

ফাইল ছবি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ওপর ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অস্থায়ী চৌকি স্থাপন নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এলাকাবাসীর মধ্যেও এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রাজশাহী বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়া উদ্দীন মাহমুদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা করা যাবে না। তবে নতুন গড়ে ওঠা চরে বিএসএফ যে চৌকি স্থাপন করেছে তা ১৫০ গজের ভেতরেই। আমরা এর প্রতিবাদ জানাবো। আশা করছি শিগগিরই তারা চৌকিটি সরিয়ে নেবে।

শুক্রবার গভীর রাতে বিএসএফ ওই চৌকিটি স্থাপন করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী জানায়, বিএসএফ যেখানে অস্থায়ী চৌকিটি করেছে, সেই জায়গাটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই পড়ে। বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকছে।

রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী জানান, বিএসএফ জিরোলাইনের ৭০ মিটারের ভেতরে অস্থায়ী ছাউনিটা করেছে, সেটি নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ওপরে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে নিজ সীমানার ১৫০ মিটারের বাইরে চৌকি করার নিয়ম। হঠাৎ গড়ে ওঠা এই চৌকিটা দেখতে পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের চরলবণগোলা কোম্পানিকে চিঠি ও বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিএসএফের কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে চরটিতে গিয়ে রাতারাতি সেখানে বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি তৈরি করে। পরদিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান ও টহল দিতে শুরু করে।

এলাকাবাসী আরও জানায়, বিজিবি সদস্যরা রোববার দিনে একবার ও রাতে আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সিগন্যাল দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যায়। রাতেই আবার নৌকাযোগে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে বিজিবি চরে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যায়। তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ চর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

বিজিবি সূত্র বলছে, বিএসএফ সদস্যদের এই লুকোচুরিতে তারা বিরক্ত। এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে গিয়ে চৌকিটি ভেঙে ফেলার জন্য বিজিবিকে চাপ দিচ্ছে। তবে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ঘটনা না ঘটাতে বিজিবি গ্রামবাসীকে নিষেধ করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, নতুন এই চরটির সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড সংযুক্ত। চরের আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের ফসলি জমি, যেখানে কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করতেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে বিএসএফ অস্থায়ী চৌকি তৈরির পর থেকে কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না। কৃষকরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে চরে অস্থায়ী চৌকি তৈরির জন্য বিজিবির কাছে দাবি করেছেন।