জেলা ও মহানগর আ'লীগের সম্মেলন আজ

সিলেটে নেতৃত্বে আসছেন কারা

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

চয়ন চৌধুরী, সিলেট

কারা আসছেন নেতৃত্বে- সিলেট আওয়ামী লীগ পরিবারে এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পুরোনোরাই থাকছেন, নাকি নতুন কেউ আসছেন শীর্ষ পদগুলোতে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ বৃহস্পতিবার। নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আজ সকাল ১১টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হবে। এরপর কাউন্সিলে উভয় কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণ হওয়ার কথা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর কাউন্সিলের জন্য নগরীর কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে ভোটের প্রস্তুতিও রয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত ভোটের প্রয়োজন হবে না বলে প্রায় সবাই মনে করছেন।

মর্যাদাপূর্ণ সিলেট জেলা ও মহানগরের শীর্ষ চার পদে কারা আসছেন- তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এই দুটি কমিটির নেতা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কাউন্সিল অধিবেশনে ভোটের বদলে হাইকমান্ডের পছন্দের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

২০০৫ সালে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল হলেও দ্বন্দ্ব-কোন্দলের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। প্রায় ছয় বছর চার নেতা দিয়ে চলার পর ২০১১ সালের নভেম্বরে সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্র থেকে উভয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে তিন বছরের জন্য গঠিত সেই দুটি কমিটি এবারে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সাংগঠনিক স্থবিরতার জন্য প্রথমে সম্মেলন করতে কয়েকজন শীর্ষ নেতার আগ্রহ ছিল না। কেন্দ্রের চাপে শেষ পর্যন্ত সম্মেলন করতে অনেকটা বাধ্য হয়েছেন তারা।

গত বছর সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হলে সাংগঠনিক স্থবিরতা ও দ্বন্দ্ব-কোন্দলের বিষয় সামনে আসে। তখন মেয়র প্রার্থীসহ মহানগরের তিনজন, জেলার একজন ও কেন্দ্রীয় এক নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। মহানগরের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে এই প্রেক্ষাপট গুরুত্ব পাবে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নেতাদের বিভেদ নিয়ে সেই সময় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে তারা কঠোর নির্দেশও দেন। কেন্দ্রের নির্দেশে শেষবেলায় তড়িঘড়ি করে জেলার আওতাধীন উপজেলা এবং মহানগরের আওতাধীন ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়েছে। অবশ্য বিরোধের জেরে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি।

এবারের সম্মেলনকে সামনে রেখে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-পোস্টার, বিলবোর্ড-তোরণে ভরে উঠেছে নগরী। অনুসারীরা সম্মেলনের সফলতা চাওয়ার পাশাপাশি এসব প্রচারপত্রে এও লিখছেন যে, 'অমুক ভাইকে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক দেখতে চাই'। সব মিলিয়ে পদপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি তাদের অনুসারীদেরও কৌশলী প্রচার চলছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জেলা ও মহানগরের শীর্ষ চার পদপ্রত্যাশীর অনুসারীরা মাসখানেক আগে থেকেই প্রচার চালাচ্ছেন।

দু'তিন দিন ধরে প্রচার মিছিলের নামে পদপ্রত্যাশী নেতার সমর্থনে নগরীতে শোডাউন হয়েছে। অনেক নেতার অনুসারী ব্যান্ডপার্টি সহকারে পিকআপ ভ্যানে করেও প্রচার চালিয়েছেন। দু'একজন নেতা সাধারণ নির্বাচনের মতো করে মাইকিংও করিয়েছেন। সবমিলে জেলা ও মহানগরের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিলেট আওয়ামী লীগে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

মহানগরে আলোচনায় যারা :প্রথমে ৩০ নভেম্বর মহানগরের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশে তা জেলার সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হচ্ছে। মহানগরের বর্তমান সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ যথারীতি আলোচনায় রয়েছেন। কামরানের পাশাপাশি আসাদ সভাপতি পদপ্রত্যাশী হওয়ায় নতুন হিসাব-নিকাশও চলছে। এ ছাড়া মহানগরের সভাপতি হতে আগ্রহী তিন সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাজউদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফুর আলী ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক।

মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বর্তমান তিন যুগ্ম-সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, বিজিত চৌধুরী ও জাকির হোসেন। দুই সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও এটিএম হাসান জেবুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। মহানগরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চান বর্তমান তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাশ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান ও সদস্য সালেহ আহমদ সেলিম।

জেলায় আলোচনায় যারা :২০১১ সালের ২২ নভেম্বর জেলা কমিটি ঘোষণার চার বছর পর সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যান। সেই সময় থেকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রথমে বার্ধক্যের কারণে জেলার সভাপতি পদে আগ্রহী না হলেও শেষবেলায় এসে ভারমুক্ত হতে চাইছেন লুৎফুর রহমান। সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীও।

সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট-মহাজোটের হিসাব-নিকাশে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সিলেট-৫ আসনে দশম সংসদ নির্বাচনে এমন ত্যাগ স্বীকার করায় বর্তমান সহসভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদের অনুসারীরাও তাকে নিয়ে আশায় রয়েছেন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদকে জেলার সভাপতি দেখতে চান তার অনুসারীরা।

জেলার বর্তমান আরেক সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপির নামও সম্ভাব্য সভাপতির আলোচনায় রাখছেন অনেকে। বর্তমান সহসভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ সভাপতি হতে চান। বর্তমান সহসভাপতি শাহ ফরিদ আহমদ এবং তিন যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সুজাত আলী রফিক ও নাসির উদ্দিন খান সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদকের আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল, উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী, সদস্য শামসুল ইসলাম জেলার সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী।