চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচন

মনোনয়ন চাইছেন বাদলের স্ত্রী, মরিয়া জাপার বাবলুও

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে উপনির্বাচন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে মহাজোটের কয়েকটি শরিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। জোটের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আসনটি পেতে চাইছে জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি। দলটির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু আসনটি পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দলের প্রার্থী হিসেবে তার নামও ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু জাতীয় পার্টি নয়, আসনটি পেতে চাইছে বিএনএফ এবং জাসদও। এ দুটি দলও তাদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। বিএনএফ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান খোদ দলটির সভাপতি এসএম আবুল কালাম আজাদ ও জাসদের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মো. হাশেম। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের শরিকরা আসনটি চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ প্রয়াত সাংসদ বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান জাসদের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন।

এদিকে সেলিনা খান ছাড়াও আওয়ামী লীগের অন্তত এক ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। যাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামসহ অনেকে রয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপিও। চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ দলটির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত জোটের শরিক দলের প্রার্থীদের ভাগ্য খুলবে কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালি) আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এখান থেকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু। সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আসনটি থেকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। বর্তমানে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, জোটের স্বার্থে তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই এখন চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে জোট প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান। জোটের বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামী লীগ হয়তো আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেবে।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলেয়মান আলম শেঠ বলেন, মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুর পর সেখানে জাসদে তার কোনো বিকল্প নেই। আসনটিতে জাপার অবস্থান খুব ভালো। সংগঠনও শক্তিশালী। ফলে মহাজোটের আসন হিসেবে আমরা আসনটি দাবি করছি।

আসনটি দাবি করছে বিএনএফও। দলের সভাপতি এসএম আবুল কালাম আজাদ নিজেই এখান থেকে নির্বাচন করতে চান। আসনটির আওতাধীন বোয়ালখালীতে তার গ্রামের বাড়ি। ফলে নিজের এলাকা হিসেবে এ আসনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে তার। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে হঠাৎ করে আলোচনায় আসে বিএনএফ। সেই নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে রাজধানীর অভিজাত গুলশান-বনানী ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, নিজের এলাকা হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ থেকে নির্বাচন করতে চান তিনি। ইতোমধ্যে এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। আসনটি পেতে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনও চেয়েছেন।

অন্যদিকে মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সেলিনা খান জাসদের হয়ে নির্বাচন করবেন- এমনটি আশা করেছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। জাসদের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন তারা। দলটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইন্দু নন্দন দত্ত জানিয়েছেন, জাসদের কার্যকরী সভাপতি প্রয়াত মইনউদ্দীন খান বাদলের স্ত্রী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চান। এ জন্য দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মো. হাশেমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।