ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় বোমা হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯   

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের জাজিরায় ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবার ওপর আসামিপক্ষের লোকজন বোমা হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতের এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ওই কিশোরীর বাবাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার সুধন্য মণ্ডলেরকান্দি গ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিয়ে আপস-মীমাংসা করতে কয়েকদিন ধরে বাদীকে হুমকি দিয়ে আসছে আসামিপক্ষের লোকজন। তাদের হুমকির মুখে ভয়ে মেয়েটির বাবা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এ বছর বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষাও দিতে পারেনি।

জাজিরা থানা ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ নভেম্বর বিকেলে ওই ছাত্রীকে প্রতিবেশী জলিল বেপারীর ছেলে শওকত বেপারী কৌশলে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। ওই ঘরে আগে থেকেই ছিল শওকতের বন্ধু সাগর শিকদার। পরে সাগর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে ওই দিনই ভিকটিমের মা বাদী হয়ে জাজিরা থানায় মামলা করেন।

বোমা হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মেয়েটির বাবা বলেন, 'ধর্ষক সাগরের বাবা দুলাল শিকদার ক্ষমতাধর ব্যক্তি। সে জুয়া খেলার আসর নিয়ন্ত্রণ করে ও জুয়াড়িদের সুদে টাকা ধার দেয়। দুলাল ও স্থানীয় মেম্বার আহাতার দুই লাখ টাকা নিয়ে মামলা আপস-মীমাংসা করার জন্য কয়েকদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল। আমি তাতে রাজি হইনি। আসামিদের হুমকির মুখে আমি দীর্ঘদিন বাড়ি থেকে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। বুধবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নিতে বাড়ি আসি। স্থানীয় নয়াবাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে দুলাল শিকদার ও মেম্বার আতাহারসহ আরও ২-৩ জন আমাকে রাস্তায় ঘেরাও করে। এ সময় আমি দৌড় দিলে পেছন থেকে আমাকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে তারা। বোমার আঘাতে আমি পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।'

তবে বোমা হামলার কথা অস্বীকার করেছেন দুলাল শিকদার। তিনি বলেন, 'কে বা কারা বোমা নিক্ষেপ করছে জানি না।'

জাজিরা থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বোমা হামলার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।