সাবেক এমপি আউয়ালকে ফের দুদকে তলব

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   

পিরোজপুর প্রতিনিধি

একেএমএ আউয়াল

একেএমএ আউয়াল

পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি একেএমএ আউয়ালকে ফের তলব করেছে দুদক। এমপি থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধভাবে সেতু ও ফেরীঘাট ইজারা নেয়াসহ টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রোববার তৃতীয়বারের মত তাকে দুদক কার্যালয়ে তলব করা হয়। তবে তিনি এদিন দুদক কার্যালয়ে হাজির হননি।

জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক পত্রে ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) একেএমএ আউয়াল দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে সাবেক এমপি একেএমএ আউয়ালসহ তার স্ত্রী এবং ছেলে মেয়েদের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির রেকর্ডপত্র, আয়কর নথি এবং আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নথি এবং একেএমএ আউয়ালের তত্বাবধানে থাকা সরকারি খাস জমি গ্রহণের সকল রেকর্ড পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দেওয়ারও কথা বলা হয়। নোটিশে আরও বলা হয়, ধার্য তারিখে অভিযুক্ত ব্যক্তি (একেএমএ আউয়াল) ধার্য তারিখে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত তার (আউয়াল) কোন বক্তব্য নেই বলে গণ্য হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জুন মাসে পিরোজপুর-১ আসনের তৎকালীন এমপি ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আউয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ জমা হয় দুদকে। পরে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৯ মে এ কেএম এ আউয়ালকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল ও হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠান দুদকের উপ-পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) সৈয়দ আহমেদ। ওই নোটিশে তাকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে ২৩ মে হাজির হতে বলা হয়।

সূত্র জানায়, প্রথম দফায় হাজির না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় গত ১৯ জুন আবার আউয়ালকে নোটিশ পাঠিয়ে ২৭ জুন তাকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। দ্বিতীয় দফা নোটিশে দুদকে হাজির হন এ কে এম এ আউয়াল।

আউয়ালের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রথমে নিয়োগ পান দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ। পরে তিনি অবসরে গেলে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান দুদকের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য আউয়াল দুদকে গিয়ে বক্তব্য দিলেও সার্বিকভাবে দুদককে খুব বেশি সহযোগিতা করেননি তিনি। পরে গত ২৪ অক্টোবর পিরোজপুর উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে (সার্কেল-৬) এ কে এম এ আউয়ালের হালনাগাদ আয়কর রিটার্নের তথ্য চেয়ে দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিটি পাঠান নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর। পরে ১১ নভেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ রিটার্নের তথ্য দুদকে পাঠানোর অনুরোধ জানান তিনি। একই দিনে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছেও চিঠি পাঠায় দুদক। ওই চিঠিতে বলা হয়- ‘সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল বিগত সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় নির্বাচনী হলফনামার সাথে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেছেন। অনুসন্ধানের স্বার্থে ওই সম্পদ বিবরণীর সত্যায়িত ফটোকপি ৪ নভেম্বরের মধ্যে দুদকে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।’

দুদক জানায়, গত ২৪ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের সম্পদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। দুদকের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানে নেমে সাবেক এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা পিরোজপুর-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর এবং স্বরূপকাঠী উপজেলায় এসে তদন্ত কাজ করে গেছেন।