মাগুরার রাজাকারদের তালিকা থানা থেকে গায়েব

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯   

 মাগুরা প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানিদের করা ভাতাপ্রাপ্ত রাজাকারদের তালিকা মাগুরার থানাগুলো থেকে গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর মঙ্গলবার বিকেলে মাগুরার মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাইফুজ্জামান শিখর ছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধরণ সম্পাদক পঙ্কজ কুণ্ডু, সহ-সভাপতি আব্দুল ফাত্তাহ, মুন্সি রেজাউল হক, আবু নাসির বাবলু, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, বাসুদেব কুণ্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশিদ হায়দার টুটুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বাবুল ফকির, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকি ইমাম, সাধারণ সম্পাদক মকবুল হাসান মাকুল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শাখারুল ইসলাম শাকিল, অ্যাডভোকেট রাশেদ মাহমুদ শাহিন প্রমুখ।

সভায় সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, রাজাকারদের তালিকা নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বর্তমানে সারাদেশে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেটি পাকিস্তানিদের করা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা রাজাকারদের ভাতা দেওয়ার জন্য প্রতিটি থানায় তালিকা করেছিল। তালিকাভুক্তরা হলো পাকিস্তানিদের ভাতাপ্রাপ্ত রাজাকার। এই তালিকা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কিংবা আওয়ামী লীগ করেনি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, মাগুরায় এই তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতাবিরোধীরা তাদের সরকারের আমলে সেই তালিকা থানা থেকে গায়েব করে দিয়েছে। আমরা এটি সন্ধান করার জন্য সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।

এ বিষয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, প্রশাসনিকভাবে চিঠি পেলে আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোল্যা নবুওয়াত আলী বলেন, মাগুরা সদর উপজেলার রাজাকার-আলবদরদের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে অনেক আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। অন্য তিন উপজেলা থেকে তালিকা পাওয়া যায়নি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।