বড়দিনে শেরপুরের পুলিশ সুপারের অন্যরকম উদ্যোগ

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯      

শেরপুর প্রতিনিধি

সবার সঙ্গে কেক কাটেন পুলিশ সুপার- সমকাল

জেলা শহর শেরপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ভারতের সীমান্তঘেষা গারো পাহাড়ের হারিয়াকোনা গ্রাম। গ্রামটি শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নে অবস্থিত। এই গ্রামে বাস করেন ১৫০ পরিবার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। এদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া হত-দরিদ্র। বড়দিন এদের কাছে সাধারণ দিনের মতই। কিন্তু এবার অন্যরকম বড়দিন পালন করলেন তারা।

মঙ্গলবার রাতে দুর্গম পাহাড়ী পথে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে হঠাৎ এই গ্রামে উপস্থিত হন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। উদ্দেশ্য, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওযা। তার সঙ্গে ছিল বড় আকারের দুইটি কেক। একটি কেকে লেখা রয়েছে ‘বড়দিনের শুভেচ্ছা- অভিনন্দন, জেলা পুলিশ শেরপুর।’ অপরটিতে লেখা- কমিউনিটি পুলিশ এর পক্ষ থেকে ‘খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে প্রাণঢালা ভালবাসা।’

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, শ্রীবরদী থানার ওসি মো. রহুল অমিন, জেলা ও উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের এর নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সঙ্গে ছিলেন।

আদিবাসী নেতা প্রাঞ্জল সাংমা বললেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে কোন এসপি আমাদের খোঁজ নেয়নি। আজ আমরা ধন্য।

পুলিশ সুপারকে শুভেচ্ছা জানাতে এসে হারিয়াকোনা চার্চের প্রধান পুরোহিত এলিও ম্রিং বলেন, ‘আমার বয়স ৬৭ বছর। জীবদ্দশার প্রায় ৬৩ বছর আমার মনে আছে। বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে রাতের প্রথম প্রহরে আমাদের মাঝে কোন এসপি এসেছে আমি তা দেখিনি। দুর্গম পাহাড়ী ও ভীষণ ঠান্ঠা উপেক্ষা করে তিনি এসেছেন। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। উনাকে অভিনন্দন জানানোর ভাষা আমার নেই।’

পরে ঠিক রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে বড়দিনের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় হারিয়াকোনা চার্চে নাচে গানে এক মনমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সুপার কেক কেটে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও শিশুদের মুখে কেক তুলে দেন।

পুলিশ সুপার কাজ আশরাফুল আজীম বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দেখে যেতে পারেননি ঠিকই। কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তাই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, সেই সঙ্গে পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে আনন্দের সাথে, নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে বড়দিন পালন করতে পারে সেজন্য আমরা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সামান্য উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বড়দিনের প্রথম প্রহরে জেলার ২৯টি গীর্জা ও চার্চে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কেক কাটার কর্মসূচী পালন করছি। এতে একদিকে সবাই মিলে উৎসবে শরিক হচ্ছি। অন্যদিকে সম্পূর্ণ নিরাপদে, নিশ্চিন্তে খ্রিস্টান সম্প্রদায় বড়দিন পালন করছে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ।