কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা আবাসিক হোটেলে!

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯   

বরিশাল ব্যুরো

বাকেরগঞ্জ উপজেলার হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হলো নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে। বৃহস্পতিবার নগরীর সদর রোডে আবাসিক হোটেল এরিনার সভাকক্ষে এ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতেই এভাবে প্রহসনমূলক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে চাকরিপ্রত্যাশী অন্য প্রার্থীদের অভিযোগ।

এ দিন সকাল ১০টার দিকে হোটেল এরিনার সপ্তম তলায় গিয়ে দেখা যায়, সভাকক্ষের একটি টেবিলে চার পুরুষ ও দুই নারী চাকরিপ্রার্থী নিজেদের মধ্যে খোশগল্প করছেন। তাদের পাশে চেয়ারে বসে আছেন আরও চার ব্যক্তি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনো চা-চক্রের আড্ডা চলছে। যারা খাতা নিয়ে টেবিলে বসে আছেন তারা নিয়োগপ্রত্যাশী আর চেয়ারে বসা ব্যক্তিরা কক্ষ পরিদর্শক। এভাবেই পরীক্ষা চলছিল।

পরীক্ষা গ্রহণকারীরা তাদের পরিচয় জানাতে না চাইলেও পরে জানা যায়, তারা কেউ শিক্ষক নন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আর এ হাওলাদারের সহযোগী; সভাপতির নির্দেশে পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।

তাদের কাছ থেকে জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষায় শিক্ষা অধিদপ্তরের নিযুক্ত প্রতিনিধি বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন এবং কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এ হাওলাদার হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন।

ওই কক্ষে গিয়ে এভাবে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি আর এ হাওলাদার উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'পরীক্ষা আমার বাসভবনে নেওয়ার ক্ষমতাও আমি রাখি। এখানে নিয়মের কোনো বিষয় নেই। আমার কলেজের পরীক্ষা কোথায় নেব, সেটা আমার ব্যাপার।'

এ বক্তব্যের পক্ষে সায় দিয়ে অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তার সুবিধামতো স্থানে পরীক্ষা নেবেন- এটাই নিয়ম।

অধ্যক্ষ জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের দুটি শূন্যপদে এবং ল্যাব সহকারীর একটি শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্য পাঁচটি পদ যথাক্রমে লাইব্রেরিয়ান, আয়া, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরীর পরীক্ষা একই স্থানে দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কতজন আবেদন করেছেন কিংবা কতজন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তা জানাননি অধ্যক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নিয়োগপ্রত্যাশী জানান, এ পদগুলোতে গত ১৮ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভাপতির স্বজনরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় ওই পরীক্ষা বাতিল করে ফের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এসব নিয়োগপ্রত্যাশী আরও জানান, আবেদন করলেও তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে ডাকা হয়নি।

শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হোটেল এরিনায় পরীক্ষার ভেন্যু হিসেবে ঠিক করেছেন। বাধ্য হয়ে তাকে আসতে হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সভাপতি চাইলেই যে কোনো স্থানে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে পারেন না। শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিও সেখানে যেতে পারেন না। কলেজের তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা স্ব-কলেজ কিংবা পাশাপাশি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতে পারত। একটি আবাসিক হোটেলে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হচ্ছে, অসৎ উপায়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদের চাকরি নিশ্চিত করা।