যুবলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বহরে হামলা

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯   

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যুবলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ি বহরে হামলা করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

রোববার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের বিলঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদউল আলম, কসবা থানার এসআই হারুনুর রশিদ, হাবিলদার আলী আজম, কনস্টেবল মাহবুবুল ও জয়রুফ। ঘটনার পর থেকে এলাকার উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর আগে দুপুরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আলমগীরকে আটক করে পুলিশ। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, কসবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। মিলন মিয়া, হাবিব মিয়া, সোহাগসহ প্রভাবশালী লোকজন অবৈধ বালু উত্তোলন কাজের সঙ্গে জড়িত।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদউল আলম জানান, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় পাঁচ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কসবার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীরসহ দু'জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত আলমগীরকে সাজা নিয়ে থানায় নিয়ে আসতে থাকে। এ অবস্থায় বিলঘর এলাকার পৌঁছামাত্র হামলা হয়। আলমগীরকে ছাড়িয়ে নিতে এ হামলা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে হামলাকারীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পারেনি।

কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক মিয়া জানান, তিনি ঘটনা শুনেছেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না।

এ ব্যাপারে কসবা থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।