শেরপুরে ঘুষসহ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯      

শেরপুর প্রতিনিধি

ছবি: সমকাল

শেরপুর জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিয়াকে ঘুষের ৫০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছে দুদক। রোববার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দুদকের টাঙ্গাইল সমন্বিত কার্যালয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। 

মো. ইউনুছ মিয়া নেত্রকোনা সদরের দরুন বালিগ্রামের বাসিন্দা মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় আড়াই মাস আগে ঢাকার সিজিএ অফিস থেকে শেরপুর জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে বদলি হয়ে আসেন।

ঘুষদাতা শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আব্দুল হানিফ জানান, গত জুন মাসে তিনি বেতন-ভাতার বকেয়া ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকার বিল জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে জমা দেন। কিন্তু ওই বিল নিয়ে ট্রেজারি অফিসের লোকজন নানা টালবাহানা করে আসছিল। অনেক অনুরোধ শেষে কর্তৃপক্ষকে তিনি কিছুটা নমনীয় করেন। কিন্তু বিলের অর্ধেক টাকা অর্থ্যাৎ ৮ লাখ টাকা দাবি করে তারা। শেষে ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তারা বিল পাস করে দেবে বলে জানায়। কয়েকদিন আগে তিনি সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিয়াকে ঘুষের ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। রোববার বাকি টাকা দিয়ে চেক নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে ঘটনাটি দুদককে জানান হানিফ মিয়া। রোববার দুপুরে দুদক ওই অফিসে ফাঁদ পাতে। এরপর হানিফ মিয়া ৫০০ টাকার নোটের ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল মো. ইউনুস মিয়াকে দেন। এ সময় তিনি ওই টাকা তার পকেটে রাখেন। কিন্তু হানিফ মিয়া চেক চাইলে তিনি বাকি টাকা পরিশোধ না করলে চেক দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। জানালা দিয়ে পুরো ঘটনাটি দুদকের কর্মকর্তারা দেখেন। এ সময় তারা ইউনুস মিয়াকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি টাকা পকেট থেকে বের করে বাইরে ছুড়ে ফেলেন। ট্রেজারি অফিসে আসা লোকজন ঘটনাটি জেনে ফেললে হৈচৈ শুরু হয়। পরে দুদক কর্মকর্তারা ইউনুস মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। 

এ অভিযানে অংশ নেন- দুদক টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল আলম, কোর্ট ইন্সপেক্টর বুলু মিয়াসহ দুদকের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এ ব্যাপারে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ইউনুস মিয়াকে শেরপুর থানা হাজতে রাখা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।