স্ত্রীকে ৮ ধর্ষকের হাতে তুলে দেয় স্বামী

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯      

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

রতন মিয়া (বায়ে) ও নজরুল ইসলাম

মাজারে গানের আসর থেকে অনুষ্ঠান দেখিয়ে বাড়ি নেওয়ার কথা ছিল রুমেলাকে (ছদ্মনাম); কিন্তু বাড়ি না নিয়ে অন্ধকার রাতে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় স্বামী রতন মিয়া। সেখানে অপেক্ষমাণ ছিল অন্তত আটজন। তারা সবাই আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিল। নির্জন বাড়িটিতে নিয়ে রুমেলাকে ধর্ষকদের হাতে তুলে দেয় রতন। এরপর রুমেলার ওপর রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

গণধর্ষণের এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। অভিযুক্ত রতন মিয়া (৩০) উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্য।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে রতন মিয়ার সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের পেছনে বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ খুঁজতে যান ওই নারী। কোনো বাসায় কাজ না পেয়ে স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল দিয়ে জাটিয়া ইউনিয়নের শিমুলতলী মোড়ে নিয়ে যায়। বাড়িতে না গিয়ে রুমেলাকে শিবপুর এলাকায় দরগায় গান শুনতে নিয়ে যায় রতন। গান শুনে রাত ১১টার দিকে হেঁটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা রওনা হয়। দ্রুত বাড়িতে যাওয়া যাবে- এ কথা বলে রাস্তা দিয়ে না গিয়ে ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জাটিয়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে যায় রতন। সেখানে গিয়ে স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। পরে সেখানে অপেক্ষমাণ আট সদস্যের হাতে তুলে দেয় তাকে। গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ থানায় গিয়ে হাজির হন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। বিকেলে আটক করা হয় প্রধান অভিযুক্ত রতনকে। আটক করা হয় সরিষা ইউনিয়নের লংগাইল গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে নজরুল ইসলামকেও।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন বলেন, স্ত্রীকে ধর্ষকদের হাতে তুলে দেয় স্বামী। গণধর্ষণের ঘটনার এমন খবর পেয়ে স্বামী রতন মিয়াসহ নজরুল ইসলাম নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।