ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ছবি আঁকতে দক্ষ মুক্তা, ভালো নাচে দু’জনই

১৫ বছরে মনি-মুক্তা

ছবি আঁকতে দক্ষ মুক্তা, ভালো নাচে দু’জনই

বীরগঞ্জের পালপাড়ায় নিজেদের বাড়িতে মঙ্গলবার কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন মনি ও মুক্তার - সমকাল

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৩ | ০৩:১৭ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৩ | ০৩:১৭

রাতে অনেককেই নিমন্ত্রণ করেছে মনি ও মুক্তা। এ জন্য সকাল থেকেই চলছে তাদের প্রস্তুতি। ক্লান্তির ছাপ নিয়ে দুপুরে ডাল, মাছ, আলু ভাজা ও শাক দিয়ে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিয়েছে দুই বোন। পরে একটু বিশ্রাম নিয়ে ফের হইচই শুরু। রাতে হবে লুচি, পায়েস, সবজি ও মিষ্টির ব্যবস্থা। বিকেল থেকে মাকে সাহায্যও করে তারা।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়ার যমজ বোন মনি ও মুক্তা। জোড়া লাগানো থেকে আলাদা হওয়া দুই বোন ১৪ বছর পূর্ণ করে গতকাল মঙ্গলবার ১৫ বছরে পা দিয়েছে। এখন তারা স্থানীয় ঝাড়বাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। জন্মদিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসে। নাশতার পর বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ফোনে। তাদের উপস্থিতিতে বেলা ১১টার দিকে কেক কাটে তারা।

সকাল থেকেই হুল্লোড় ও খেলাধুলায় কাটলেও জন্মদিনের মূল আয়োজন ছিল রাতে। তাদের মঙ্গলের জন্য বাবা-মা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। নিজেদের জন্মদিনে বেলুন ফুলিয়ে সাজসজ্জাও করে তারা। সাত-আটজন বন্ধু ও সহপাঠী এসেছিল দিনের বেলায়।

এখন জ্বর, সর্দি, কাশির মতো কিছু বিষয় ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয় না মনি ও মুক্তার। ওষুধও খেতে হয় না। তাদের দাদা (বড় ভাই) সজল পাল জানান, মনি-মুক্তা পড়ালেখায় ভালো। মুক্তা ভালো ছবি আঁকে। উভয়ের নাচে দক্ষতা আছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দুই বোন অংশগ্রহণ করে। প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান অধিকার করছে। তাদের জীবনযাপন এখন স্বাভাবিক।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বদৌলতে এবং চিকিৎসক এ আর খানের প্রচেষ্টায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে মনি-মুক্তা। ১৫তম জন্মদিনে তারা জানায়, দুই বোন মিলে বেলুন ফুলিয়ে সাজগোজ করেছে। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে অনেক গল্পও করে। তারা (বন্ধু) ও আত্মীয়স্বজন অনেকে উপহার দিয়েছে। প্রতিবছর তাদের জন্মদিনটা এভাবেই কাটে।

মনি-মুক্তার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। সাধ্যমতো লেখাপড়া করাচ্ছেন জানিয়ে বাবা জয় প্রকাশ পাল বলেন, চিকিৎসক হতে পারলে তাদের বলবেন, যেন রোগীর কাছে ফি না নেয়।

জোড়া লাগানো দুই বোনের জন্মের পর দুশ্চিন্তায় ছিলেন মা কৃষ্ণা রানী পাল। চিকিৎসক, নার্স সবাই সাহস দিলেও তাঁর ঘুম ও খাওয়া ছিল না। মানুষের সমালোচনা, কটু কথার মধ্যেই ঢাকা শিশু হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা হয়। তিনি বলেন, আগে সমস্যা হলেও এখন নেই। জোড়া লাগানো অবস্থায় থাকা ছয় মাসে তাদের গোসল, খাওয়ানো ও ঘুমানোর জন্য তিন-চারজন লাগত।

প্রতিবেশীদের কাছে ভালো মেয়ে হিসেবে পরিচিত মনি-মুক্তা। চঞ্চল হলেও কারও সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করে না। নিজের বিয়ের পর দুই বোনের জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্মের বিষয়টি জানতে পারেন রত্না রায়। তিনি বলেন, ওরা খুব ভালো মেয়ে। ভদ্র ব্যবহার করে সবার সঙ্গে।

কৌশলা পালের ভাষ্য, দুই বোন এখন স্বাভাবিক, লেখাপড়ায়ও ভালো। তারা ভালো হোক, ভালোভাবে লেখাপড়া শিখুক।

দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনি ও মুক্তা। ২০০৯ সালে পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে পেটে জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম হয় মনি ও মুক্তার।

আরও পড়ুন

×