ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

নাজিরপুরে কোয়ারেন্টাইন মানছেন না কেউ, বাড়ছে করোনা আতঙ্ক

নাজিরপুরে কোয়ারেন্টাইন মানছেন না কেউ, বাড়ছে করোনা আতঙ্ক

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ২২:৩৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

প্রবাসীসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর এবং দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ করোনাআক্রান্ত এলাকা থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা এসে অবস্থান করা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই হোম কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা মানছেন না। তারা পাড়া-মহল্লার দোকানসহ হাট-বাজারে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। এমনকি সামাজিক দূরত্ব না মেনে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানোর অভিযোগও উঠেছে।

ওই সব ব্যক্তিদের শৃংখলার মধ্যে আনা এবং হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ দায়সারা ভাবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে জেলা সদরে দু’জন, ভান্ডারিয়ায় একজন ও মঠবাড়িয়ায় একজনসহ জেলায় মোট চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় নাজিরপুর উপজেলা জুড়ে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করাসহ না মানলে প্রশাসনকে অবগত করার নির্দেশনা রয়েছে। তারপরেও অজ্ঞাত কারণে এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, স্থানীয় গ্রাম পুলিশ, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানগণ মিলে কিছুটা কঠোর ভূমিকা রাখলেই বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু ভোট বা ভোটারের হিসেব মিলাতে গিয়ে তারা সেই ভূমিকা টুকু রাখছেন না।

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে- জনবল কম থাকার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি রোধ ও আক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনসমাগমরোধসহ বাজার মনিটরিং ও কর্মহীনদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে তাদের দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এ সব কারণে তাদের পক্ষেও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা অনেক কঠিন। তার পরেও তারা চেষ্টায় কোন ত্রুটি করছেন না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টায় কোন ত্রুটি করছি না। হোম কোয়ারেন্টাইন না মানার সংবাদ পেলেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজনকে জারিমানা করা হচ্ছে। সর্বপরি জনসাধারণ সচেতন না হলে প্রশাসনের পক্ষে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কঠিন। এ সময় তিনি করোনা রোধসহ আক্রান্ত নিয়ন্ত্রণে নাজিরপুরবাসীর সহায়তা কামনার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকার আহবান জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ৭৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে ১৩ জন, দীর্ঘায় ৩ জন, শাখারীকাঠীতে ১৭ জন, সেখমাটিয়ায় ১৫ জন, শ্রীরামকাঠী ৮ জন ও কলারদোয়ানিয়ায় ১৭ জন।

আরও পড়ুন

×