ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

শিবপুর

‘অফিসার কোয়ার্টারে’ শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

‘অফিসার কোয়ার্টারে’ শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী- সমকাল

শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:১৮ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:১৮

নরসিংদীর শিবপুরে আড়াই বছর ধরে একটি পোশাক কারখানার ‘অফিসার কোয়ার্টারে’ আটকে রেখে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন সইতে না পেরে শিশুটি পালিয়ে বাড়ি ফেরার পর প্রকাশ পেয়েছে নির্যাতনের ঘটনা। এরপর থেকে পলাতক অভিযুক্ত দম্পতি। 

শিবপুরের কারারচর এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন মজুমদার জুয়েল ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম ওরফে শাপলার বিরুদ্ধে এ নির্যাতনের অভিযোগ। তাদের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। নির্যাতনের শিকার শিশুটি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের সৈয়দেরখোলা গ্রামের আ. রশিদের ছেলে পারভেজ (৮)।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী শিশুটি শিবপুর উপজেলার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দরিদ্র আ. রশিদের ছেলে। তাকে আড়াই বছর আগে মঈন উদ্দিন মজুমদার জুয়েল ও রহিমা বেগম ওরফে শাপলা দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে দেওয়া হয়। লেখাপড়া করানোসহ বাসায় অন্য শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বাসার দরজা খুলে দেওয়ার মতো কাজের কথা বলেই নেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেখানে নিয়মিত খেতে না দেওয়াসহ কারণে-অকারণে লাঠি, লোহা, বেলুন, ছেনি দিয়ে তাকে নির্যাতন করা হতো। 

শিশুটির বাবা আ. রশিদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে ছেলেকে দেখতে গেলে বাসায় ঢুকতে দেওয়া হতো না তাঁকে। জানালা দিয়ে দেখানো হলেও পরনে থাকতো বড় পোশাক যাতে নির্যাতনের ক্ষত দেখা না যায়। নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২১ আগস্ট সকালে বাসার পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে বাড়ি ফেরার পর নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

আ. রশিদ বলেন, তাঁর ছেলের চোখ, মুখ, ঘাড়, মাথা, বুক, পাসহ প্রায় সব অঙ্গে রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন। ঠান্ডা পানীয় ছাড়া কিছুই খাচ্ছে না সে। করছে অস্বাভাবিক আচরণ। তার স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

শিশুটির মা স্বপ্না বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের আচরণে মানুষ তাকে পাগল বলে নানা বিচার নিয়ে আসে। সে কোনো খাবার খাচ্ছে না, এমন কি ওষুধও খাচ্ছে না।’

শিশুটি বাড়িতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত দম্পতি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদারের ভাষ্য, গত ২৮ আগস্ট মামলা হয়েছে। শিশুটির মা-বাবা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×