ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

শ্রীবরদী

মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে বোনদের জমি আত্মসাৎ

মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে বোনদের জমি আত্মসাৎ

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:২২ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:২২

দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রারের সহায়তায় মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিলে দুই বোনের সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন ছোট ভাই। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদী পৌর শহরের পোড়াগড় গ্রামে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনের নামে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী দুই বোন। 

বৃহস্পতিবার শ্রীবরদী সিআর আমলি আদালতে মামলার শুনানি হয়েছে। এ সময় বিচারক দলিল সম্পাদনে জড়িত চারজনকে এক মাসের জামিন দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে সঠিক মৃত্যুসনদ, জাল দলিলসহ অন্য নথিপত্র আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। 

জানা গেছে, পোড়াগড় বাজারে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামানের ২০ শতক জমি রয়েছে। সেখানে বসতবাড়ি ও চার কক্ষের একটি মার্কেট রয়েছে। জমিটির বাজারমূল্য ৭০-৭৫ লাখ টাকা। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মা-বাবার মৃত্যুর পর বোনদের ওয়ারিশ দিতে অস্বীকার করেন ভাই। এ নিয়ে তাদের বিরোধ চলছে। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি তাদের মা মনোয়ারা বেগম এবং ২০২২ সালে বাবা শামসুজ্জামান প্রয়াত হন। মায়ের মৃত্যুর ১১ মাস পর ছেলে মঞ্জুরুল গোপনে মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে ১৩ নভেম্বর শ্রীবরদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পুরো সম্পত্তি নিজের নামে দলিল করে নেন।

মঞ্জুরুলের বড় বোন ইরানি বেগমের ভাষ্য, এক দিন তিন ভাইবোন বাবার মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিতে শ্রীবরদী যান। এ সময় ভাইয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে তাঁকে পৈতৃক সম্পত্তির হিস্যা বুঝিয়ে দিতে বলেন। এ সময় মঞ্জুরুল জানান, মা তাঁকে সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে ভাই সম্পত্তি দলিল করে নিয়েছেন। 

ইরানির বড় বোন লাকি বেগম বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি ভাই তাঁর শ্বাশুড়িকে মা বানিয়ে জাল দলিল করেছে। এটি অন্যায়।’ 

জানতে চাইলে দলিল লেখক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি আইডি কার্ড পেয়েছি, তাই দলিল করেছি।’ মঞ্জুরুলের মা দলিল হওয়ার দিন হাজির ছিলেন কিনা জানতে চাইলে দাবি করেন, ‘অবশ্যই হাজির ছিলেন। জবানবন্দি ছাড়া কি জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে?’

কথা হয় শ্রীবরদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, একদিন মঞ্জুরুলের স্ত্রী এসে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরের ভাতা তুলতে পারছি না। একটি মৃত্যুসনদ দরকার। আমি স্বাক্ষর করে দিই। পরে জানতে পারি আমাকে বোকা বানিয়ে জাল সনদ নেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি মঞ্জুরুল ইসলাম। তবে তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, স্বামীর দুই বোনকে ডাকা হয়েছে। তারা আসেননি। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে।

শ্রীবরদীর সাব-রেজিস্ট্রার মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বরের ৫৬৪৭ নম্বর দলিলে মনোয়ারা বেগমকে জীবিত দেখানো হয়েছে। তিনিই ছেলেকে জমি লিখে দিয়েছেন। কী করে মৃত নারী জীবিত হয়ে দলিল সম্পাদন করলেন? 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোক্তারনামা দলিলে আইডি কার্ড দেখা হয়। অন্য কোনো দলিলে আইডি কার্ড যাচাই করা বাধ্যতামূলক নয়। এই সুযোগই নেওয়া হয়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রার নূরে নেওয়াজ বলেন, ‘তদন্ত করব। যদি সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান এই ঘটনায় জড়িত থাকেন, তবে তিনিও রেহাই পাবেন না।’

আরও পড়ুন

×