ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

চবিতে জালিয়াতির অভিযোগে হতে পারেননি শিক্ষক

সহকারী প্রক্টরের স্ত্রীকে কর্মচারী পদে নিয়োগ

সহকারী প্রক্টরের স্ত্রীকে কর্মচারী পদে নিয়োগ

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:৩৭ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৭:০৮

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহকারী প্রক্টর অরুপ বড়ুয়ার স্ত্রী অভি বড়ুয়া। জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৪তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক হিসেবে তাঁর নিয়োগের সুপারিশ বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু এই বাতিলের দেড় মাস পরেই বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের রিসার্চ ফেলোর ঊর্ধ্বতন সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভি। বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

গত বছর ২৫ জানুয়ারি ও ২৪ আগস্ট পালি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগে আলাদা দুটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এতে সহকারী প্রক্টরের স্ত্রী অভি বড়ুয়া আবেদন করেন। তবে তিনি স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম না হয়েও আবেদনপত্রে ‘প্রথম’ উল্লেখ করেছিলেন। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হিসাব উল্লেখ করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। এসব তথ্য জালিয়াতির কারণে তাঁর আবেদনটি বাতিল করে যাচাই-বাছাই কমিটি। 

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভি বড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করেন। গত বছরের ৬ নভেম্বর তিনি সংশোধনী আবেদনপত্র জমা দেন। তবে আবেদনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সে আবেদনপত্র গ্রহণ করেনি নিয়োগের যাচাই-বাছাই কমিটি। তবে কমিটির এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অভিকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকে কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ মার্চ তার সাক্ষাৎকার নেয় নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড। ওই বোর্ডে পালি বিভাগের সভাপতি শাসনানন্দ বড়ুয়ার আপত্তি সত্ত্বেও অভিকে  নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। ওই সময় সহকারী প্রক্টর অরুপ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৪ জুলাই ৫৪৪তম সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ বোর্ডের করা এই সুপারিশ বাতিল করা হয়। তখন সিন্ডিকেট সদস্যরা জানান, আবেদনপত্রে ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দেওয়া ও বিজ্ঞাপনের শর্ত পূরণ না করায় অভি বড়ুয়ার নিয়োগের সুপারিশের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।  

বৃহস্পতিবার তাঁকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভি বড়ুয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর রিসার্চ ফেলোর (পালি, সংস্কৃত) শূন্য পদের বিপরীতে দৈনিক ৬৫০ টাকা হারে ছয় মাসের জন্য ঊর্ধ্বতন সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া উপাচার্য শিরীণ আখতারের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায়ই দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে। অন্যদিকে এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ জালিয়াতির কারণে সিন্ডিকেট বাতিল করেছে। এই ধরনের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শোভনীয় নয়।’

আরও পড়ুন

×