ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

চার দশকের পুরোনো ১৩ মামলা নিষ্পত্তি

দুই ইচ্ছাকৃত খেলাপি থেকে ২ কোটি টাকা আদায়

দুই ইচ্ছাকৃত খেলাপি থেকে ২ কোটি টাকা আদায়

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:২৩ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:২৩

চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে বৃহস্পতিবার ৪০ বছরের পুরোনো ১৩টি ঋণখেলাপি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সময় দুই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ২ কোটি টাকা পরিশোধ করলে মামলাগুলো থেকে তাদের অব্যাহতি দেন যুগ্ম জেলা জজ মুজাহিদুর রহমান।

দুই ব্যবসায়ী হলেন– জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও শেখ আবদুল মোমিন। ২০ বছর ধরে পরোয়ানা থাকলেও তাদের কখনও গ্রেপ্তার করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জাহাঙ্গীর চট্টগ্রাম আইন কলেজের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সভাপতি।

রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বিতরণকৃত ঋণখেলাপি হলে তা আদায়ে অর্থঋণ আদালতে ১৩টি মামলা করে জনতা ব্যাংক লিমিটেড লালদীঘি শাখা। ১৯৮৫ সালের রায়ে সময় বেঁধে দিলেও বিবাদীরা ডিক্রিকৃত টাকা পরিশোধ করেননি। পরে ১৯৯০ সালের শুরুতে দুই ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অর্থঋণ জারি মামলা হয়। ১৯৯২ সালে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

আদালত কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ৮ ঋণখেলাপি মামলার দায়িক জাহাঙ্গীর চৌধুরী ২০২১ সালে গ্রেপ্তার হয়ে ১ কোটি টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান। জনতা ব্যাংকের সুদ মওকুফের আওতায় সব দায়দেনা শোধ করায় চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত গতকাল জাহাঙ্গীর চৌধুরীকে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেন। একই দিনে জনতা ব্যাংক লালদীঘি শাখার ঋণখেলাপি ব্যবসায়ী শেখ আবদুল মোমিনের বিরুদ্ধে ১৯৮০ সালের খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য করা ৫টি মামলায় সব দায়দেনা পরিশোধ করায় তাকেও অব্যাহতি দেন আদালত।

জনতা ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী মোহাম্মদ বদরুল রিয়াজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে মুজাহিদুর রহমান যোগদানের পর মামলা নিষ্পত্তি ও খেলাপি ঋণ আদায় বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৪০ বছরের পুরোনো ঋণ পরিশোধে দুই ব্যবসায়ী বাধ্য হলেন।’

জনতা ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক এস এম আবদুল ওয়াদুদ জানান, গত দুই বছরে তাদের ব্যাংকের ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৩২টি অর্থঋণ মামলা ৩০ বছরের পুরোনো। আদালতের কঠোর অবস্থানের কারণে ইচ্ছাকৃত অনেক খেলাপি এখন টাকা পরিশোধে এগিয়ে এসেছেন।


আরও পড়ুন

×