ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ১১ জন

জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী  তালিকায় ১১ জন

মামুন রেজা, খুলনা

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

খুলনার ছয়টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে কোনো আসনেই নেই প্রভাবশালী প্রার্থী। আসনগুলোর সম্ভাব্য ১১ প্রার্থীর মধ্যে সংসদ সদস্য পদে এর আগে নির্বাচন করা প্রার্থী মাত্র দু’জন। তবে তারাও কখনও বিজয়ী হতে পারেননি। জেলায় দলের সাংগঠনিক অবস্থাও নাজুক। একসময় খুলনার রাজনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম দলটি এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কেন্দ্রে তালিকা পাঠিয়েছে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি।

তালিকায় রয়েছেন খুলনা-১ আসনে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, খুলনা-২ আসনে মহানগর সভাপতি মহানন্দ সরকার ও সহসভাপতি অচিন্ত্য কুমার দাস। খুলনা-৩ আসনে মহানগর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীর, খুলনা-৪ আসনে জেলা সাধারণ সম্পাদক এম হাদীউজ্জামান ও সহসভাপতি এম এ ফরহাদ আহমেদ। খুলনা-৫ আসনে ফুলতলা উপজেলা সভাপতি মো. সাঈদ আলম মোড়ল ও ডুমুরিয়ার সভাপতি সরদার আব্দুস সবুর, খুলনা-৬ আসনে জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মধু।

এর মধ্যে শফিকুল ইসলাম মধু দু’বার সংসদ সদস্য ও দু’বার খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এবং এম হাদীউজ্জামান একবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মতো প্রভাবশালী কোনো প্রার্থী নেই। ১৯৮৬ সালের পর কোনো সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। এমনকি দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীও হতে পারেনি পার্টির কেউ।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে পুরাতন, জরাজীর্ণ একটি একতলা ভবনের দুটি কক্ষ নিয়ে দলের কার্যালয়। দিনে বা রাতে নেতাকর্মীর তেমন ভিড় থাকে না। দলের পদধারীরা মাঝেমধ্যে কার্যালয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একাধিক নেতা বলেন, তাদের সাংগঠনিক অবস্থা এখন দলীয় কার্যালয়ের মতোই নাজুক। দিন দিন কর্মী-সমর্থক কমে যাচ্ছে। তারা না সরকারি দল, না বিরোধী দল। তবে বেশির ভাগ সময়ই সরকারঘেঁষা অবস্থান থাকে। এ রকম একটি অবস্থায় থেকে দলে কর্মী-সমর্থক ধরে রাখা খুবই কঠিন।   
দলের নেতারা জানান, চলতি বছরের ২ মার্চ মহানগর ও ৩ মার্চ জেলা কমিটির সম্মেলন হওয়ার পর ১১১ সদস্যবিশিষ্ট দুটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কিছু দিন আগে জেলা যুব সংহতির সম্মেলন হলেও মহানগর কমিটি নেই। মহানগর ও জেলায় ছাত্র সমাজের পৃথক কমিটি থাকলেও তাদের দলীয় কোনো কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে।
এ ব্যাপারে জেলা জাপার সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, দল যদি কোনো জোটে না যায় তাহলে আলাদাভাবে খুলনার সবগুলো আসনেই নির্বাচন করার ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক দুরবস্থার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, শহরের তুলনায় গ্রামে দলের অবস্থা কিছুটা ভালো।

মহানগর জাপার সভাপতি মহানন্দ সরকার বলেন, কেন্দ্রে বিভক্তি না থাকলে হয়তো খুলনা বা অন্যান্য জেলায় দলের অবস্থা ভালো হতো। অনেকেই এখন ক্ষমতার স্বাদ পেতে চায়। যে কারণে সুবিধাবাদীরা দল ত্যাগ করে অন্য দলে যাচ্ছে। তারপরও তারা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×