ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দপ্তরিকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

দপ্তরিকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১২:২৪ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১২:২৪

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার প্রধান শিক্ষককে ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তিনি মুক্ত হন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, দপ্তরি আসাদুল আলম বেতনের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রত্যয়নপত্র নিতে যান। প্রতিমাসের ২৫ তারিখের মধ্যে এর প্রয়োজন হয়। রোববার আসাদুল প্রত্যয়নপত্র চাইলে প্রধান শিক্ষক তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর দু’জনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিসহ মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষককে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার শাস্তিসহ বদলির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়। পরে পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক আগে মেলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ঘটনা ঘটিয়ে বদলি হয়েছেন। নিজেরা এভাবে মারধর করলে শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দেবেন? তারা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানায়।

দপ্তরি আসাদুল আলম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতনের জন্য প্রত্যয়নপত্র চাইলে প্রধান শিক্ষক দিতে চান না। শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করে এর আগে বেতন তুলেছি। প্রত্যয়ন না পেলে এর পর থেকে বেতন তুলতে পারবেন না। সে কারণে প্রত্যয়ন চাইতে গেলে প্রধান শিক্ষক গালাগাল করে মারধর শুরু করেন।

তবে প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দপ্তরি প্রত্যয়নপত্র নিতে এসে আচমকা তার পিঠে আঘাত করে টেবিলের কাজগপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান। গায়ে হাত তোলার কারণ জানতে চাইলে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। দপ্তরিকে মারধর করা হয়নি বলে জানান তিনি।

দপ্তরির আচার ব্যবহার খারাপ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুরজিত সরকার বলেন, আগামী সপ্তাহে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বসে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বলেন, ঘটনাটি দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষা কর্মকর্তা ছুটি থেকে ফিরলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমানও একই কথা বলেন।

আরও পড়ুন

×