ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ডেঙ্গু কেড়ে নিল শিশু তৌহিদের প্রাণ

ডেঙ্গু কেড়ে নিল শিশু তৌহিদের প্রাণ

তৌহিদ

রাজশাহী ব্যুরো ও চারঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:৫৭ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:৫৭

রাজশাহীর চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তৌহিদ। আনন্দ-উল্লাস আর খেলাধুলায় সারাদিন বাড়ি মাতিয়ে রাখত সে। সবসময় মুখে হাসি লেগে থাকা তৌহিদ এখন শুধুই স্মৃতি।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। ডেঙ্গুতে এটিই এ হাসপাতালে প্রথম শিশু মৃত্যুর ঘটনা।

আতিক হাসান তৌহিদ (১৩) চারঘাট উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান ও শায়লা আক্তার দম্পতির সন্তান। তিন সন্তানের মধ্যে তৌহিদ দ্বিতীয়।

এদিকে সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় বাকরুদ্ধ মা-বাবা খাওয়া-দাওয়া ছেড়েছেন। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাদের বাঁচাতে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। একটু সুস্থ হলেই ছুটে যেতে চাচ্ছেন সন্তানের কবরের কাছে। কখনও আবার শোকে পাথর হয়ে নিশ্চুপ বসে থাকছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মুংলিগ্রামে গিয়ে এ অবস্থা দেখা যায়।

তৌহিদের পরিবার জানায়, গত শনিবার তৌহিদের হালকা জ্বর আসে। রোববার তাকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। প্লাটিলেট কমতে থাকায় তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার তার প্লাটিলেট কিছুটা বাড়ে। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার থেকে প্লাটিলেট আবারও কমতে শুরু করে। শনিবার ভোরে তৌহিদ মারা যায়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তৌহিদের চাচা শাহেদ আলম জানান, সন্তান হারিয়ে তার বাবা-মা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। তাদের শরীরে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার রামেক হাসপাতালের পাঠানো দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তৌহিদের বয়স সবচেয়ে কম। অপর ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বয়সই ৬০ বছরের ওপরে। একজনের বয়স ৫০ বছরের নিচে এবং একজনের বয়স ২০ বছর। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮২ জন ডেঙ্গু রোগী। এটি চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ বছর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীর স্থানীয় রোগী ছিলেন ১ হাজার ৩৬৯ জন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহম্মেদ জানান, শিশু তৌহিদের সর্বাত্মক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এক দিনের জ্বর ও মাথাব্যথাতে রোগী কাবু হয়ে যায়। দুর্বল হয়ে পড়লে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মারা যায়।

আরও পড়ুন

×