কী দোষ ছিল নবজাতকের

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২০      

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

কী দোষ ছিল সদ্যোজাত শিশুটির! পৃথিবীর আলো দেখতে না দেখতেই তাকে নিতে হলো নির্মম বিদায়। অভিযোগ উঠেছে, ইয়ানুর বেবি নামের ১৫ দিনের শিশুটিকে লবণ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে তার সৎভাইয়ের স্ত্রীকে।

শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুর সদর উপজেলার চোওড়া গ্রামে। নিহত ইয়ানুর নুর ইসলামের মেয়ে। গ্রেপ্তার সৎভাবি আরফাতুন মিমি (২২) নুর ইসলামের প্রথমপক্ষের ছেলে হাসিনুর রহমানের স্ত্রী।

দিনাজপুর সদরের চোওড়া গ্রামের নুর ইসলাম প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী নারগিস বেগম ১৫ দিন আগে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরই মধ্যে আকিকা করে শিশুটির নাম রাখা হয় ইয়ানুর বেবী।

শুক্রবার দুপুরে শোবার ঘরে ইয়ানুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার মুখে ফেনা ও লবণ দেখা যায়। এতে সন্দেহ হয়, শিশু ইয়ানুরকে লবণ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার সঙ্গে একই বাসায় থাকা নবজাতকের সৎভাবি মিমিকে সন্দেহ করা হয়। এ সময় গ্রামের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মিমিকে গ্রেপ্তার ও শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। শনিবার শিশুটির ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ইয়ানুর বেবির বাবা নুর ইসলাম পুত্রবধূ আরফাতুন মিমিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দুলাল জানান, আসামিকে শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির জমি নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) বজলুর রশিদ জানান, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে বিষয়টি পুরোপুরি জানা যাবে।