ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতা জাকিরকে দুদকে তলব

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২০   

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেওয়া ও বেআইনি ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অর্জন এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক জাকির হোসেনকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কেয়টখালী গ্রামের এই যুবলীগ নেতাকে আগামীকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন তাকে তলবের নোটিশ পাঠান। জাকির বিতর্কিত ঠিকাদার ও কথিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানায় দুদক।

জাকির হোসেনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৩১ মার্চ শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এ নিয়ে জাকির হোসেন তিন দফা শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন আদায়ে অনেক অর্থ ব্যয় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন এবং কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার আয়ের কোনো দৃশ্যমান উৎস না থাকলেও তিনি স্টিল মিলসহ হাজার হাজার বিঘা জমির মালিক বনে গেছেন।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টিম এ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বেআইনি ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অর্জন ও বিদেশে পাচারের নানা তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পায় দুদক।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। আর জি কে শামীমের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা তো দূরের কথা, তাকে কখনও দেখিওনি। ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও মিথ্যা।