ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন অপহৃত ৪ জেলে

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০      

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

ফাইল ছবি

বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের ছয় লাখ টাকা পরিশোধের পর রোববার সকালে বাড়িতে ফিরেছেন সুন্দরবনে মাছ শিকারে গিয়ে অপহৃত মিয়ারাজ হোসেন (৩৫) ও রবিউল ইসলাম(৩০), কবির (২৬) ও রিপন হোসেন (২৬) নামে চার জেলে। 

তারা যথাক্রমে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামের আব্দুল্লাহ খোকন, সাদেক গাজী এবং নাপিতখালী গ্রামের মকিম হালদার ও সিরাজুল হালদারের ছেলে। 

মুক্তিপনের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় জিম্মি অবস্থায় ব্যাপক শারীরিক নির্যাতনের শিকার চার জেলেকে রোববার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাত সদস্যের সশস্ত্র একটি গ্রুপ গত ১৪ জানুয়ারি বিকাল ও রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের পুষ্পকাটি ও বাটুলে এলাকা থেকে ওই চার জেলেকে অপহরন করে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা আবু সালেহ কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক হিসেবে কোবাতক স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের পর অপহরণের শিকার হন।

ফিরে আসা জেলে মিয়ারাজসহ অন্যরা জানিয়েছেন, ১৪ জানুয়ারি বনদস্যুরা নিজেদের ‘জিয়া বাহিনী’র সদস্য পরিচয়ে ছয়টি নৌকার ১২ জেলের মধ্য থেকে তাদের চারজনকে উঠিয়ে নিয়ে তিন দিনের মধ্যে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জিম্মি অবস্থায় তাদের হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পায়ের তালুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতন চালানো হয়। 

রমজাননগর ও গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন ও মাসুদুল আলম জানান, ফিরে আসা জেলেরা স্বাভাবিক হাঁটাচলার সক্ষমতা হারিয়েছেন। তাই বাড়িতে ফেরার পরপরই তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।