ছয় বছর ধরে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন মোনতাজ

অর্থের অভাবে বন্ধ চিকিৎসা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২০   

কিশোরগঞ্জ অফিস

পিলারের সঙ্গে ডান পা শিকল দিয়ে বাঁধা রিপনের- সমকাল

পিলারের সঙ্গে ডান পা শিকল দিয়ে বাঁধা রিপনের- সমকাল

বাড়ির পশ্চিম পাশের দোচালা টিনের ঘরের একটি পিলারের সঙ্গে ডান পা শিকল দিয়ে বাঁধা। দক্ষিণ পাশ খোলা সেই ঘরের মেঝেতে একটি কাঁথা গায়ে বসে আছেন এক যুবক। ওই ঘরেই তার খাওয়া-দাওয়া, প্রস্রাব-পায়খানা ও ঘুমানো।

প্রায় ছয় বছর ধরে এভাবেই শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মোনতাজ উদ্দিন (৩০)। পরিবারের আর্থিক দীনতার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন এ যুবকের চিকিৎসাও করা যাচ্ছে না।

শিকলবন্দি মোনতাজ উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের প্রয়াত আজিম উদ্দিনের ছেলে। বাকপ্রতিবন্ধী মোনতাজ এক চোখে কিছুই দেখতে পান না। এ ছাড়া বছর ছয়েক আগে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। প্রাথমিক পর্যায়ে কবিরাজ ও পরে ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করেও তাকে সুস্থ করা যায়নি। একপর্যায়ে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। বাড়ির সদস্যরাসহ আশপাশের লোকজনকে মারধর শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই তাকে বাড়ির একটি ঘরে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে।

মোনতাজ উদ্দিনের বয়োবৃদ্ধ মা দোলেনা খাতুন জানান, প্রায় ছয় বছর ধরে তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। গ্রাম্য কবিরাজের চিকিৎসায় কিছুদিন ভালো ছিল। পরে আবারও সে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এরপর কিশোরগঞ্জে নিয়ে ডাক্তার দেখানো হলেও সুস্থ হয়নি। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আশপাশের লোকজনের বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে এনে ছেলেকে নিয়ে কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন।

তিনি আরও জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেক লোকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন; কিন্তু কারও সহযোগিতা পাননি। এ ছাড়া একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে চণ্ডিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুদ্দিন বলেন, মোনতাজ উদ্দিন যে প্রতিবন্ধী তা আগে শনাক্ত করতে হবে। পরে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, মোনতাজ উদ্দিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে শিগগিরই তাকে ভাতার আওতায় আনা হবে।