রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলায় নিহতের ঘটনায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও দু'জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারির ওই ঘটনায় নিহত হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের সিপিবি কর্মী মোক্তার হোসেন বেপারী। সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে তার পরিবার। মোক্তারের পরিবারের দাবি- রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

নিহত মোক্তারের ভাই বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে আমরা চাই, রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়। কোনো অজুহাতে যেন দণ্ডপ্রাপ্তরা পার পেয়ে না যায়।’

নিহতের ছেলে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা নিহতের সময় আমি ও আমার বোন খুব ছোট ছিলাম। বাবার আদর-স্নেহ কিছুই পাইনি। যারা আমাদের বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে তাদের দ্রুত শাস্তি কার্যকর করা হোক এটাই চাই।’

উল্লেখ্য, ১৯ বছর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দলটির পাঁচ কর্মী নিহত হন।

নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। এরপর আদালতের আদেশে ২০০৫ সালে আবার মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর সিআইডি পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এই মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত দুইজনকে খালাস দিয়েছেন। সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।