রাঙামাটির বরকল উপজেলার দুর্গম ও ভারতের সীমান্তবর্তী ঠেগার আন্ধারমানিক এলাকাটি স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এলাকার মানুষ। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবশ্য রয়েছে। কিন্তু প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েই এখানকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। এলাকার বাসিন্দারা একবেলা কম খেয়ে হলেও অন্তত সন্তানদের আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখেন। সেই ভাবনা থেকেই ১৯৯৬ সালে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করেন আন্ধারমানিক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর্থিক সংকটে সেটিও বন্ধ হয়ে যায় ২০১৩ সালে। তবে দমার পাত্র নন তারা। আট বছর বন্ধ থাকার পর গত ৫ জানুয়ারি তারা বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণ করেন। নিজেদের চাঁদার টাকায় বর্তমানে চলছে বিদ্যালয়টির সব কার্যক্রম। ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়, ৮০ জন। আর শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। রয়েছেন একজন অফিস সহকারীও। গ্রামবাসীর আশা, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে আলো আসবেই আন্ধারমানিকের। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেছেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিদ্যালয়ের খরচ মেটাতে এলাকার ব্যবসায়ীসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। এ দিয়েই তাদের বেতন-ভাতা মেটানো হয়। এভাবে কত দিন চলবে, সেটাও ভাবনার বিষয়। তাই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ঠেগার আন্ধারমানিক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ১৭৫ নম্বর করল্যাছড়ি মৌজার হেডম্যান রাজেশ চাকমা (তপন) জানান, নানা সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সাধুবাদ জানাই। গ্রামবাসীর চাঁদায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি কোনোমতে টিকে আছে। জেলা পরিষদ বা উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া গেলে এর কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বরকল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বইপত্র দিয়ে  সহযোগিতা করতে পারবেন তারা। তবে শুনেছি, বিদ্যালয়টি বেশ কয়েক বছর বন্ধ ছিল। আবারও বিদ্যালয়টি চালু হয়েছে জেনে খুশি হয়েছি। গ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।