ঈশ্বরদীতে সারওয়ার আলম (৪৩) নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে ওই শিক্ষকের 'স্বাভাবিক মৃত্যু' হয়েছে জানিয়ে দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে লাশ দাফনের আগমুহুর্তে 'স্বাভাবিক মৃত্যু নয়' দাবি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তার ভাই সাজেদুল ইসলাম। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। 

মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার লাশ দুবলা চরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কম বয়সে মৃত্যু ও দাফনের সময় নির্ধারনের পর থানায় অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সারওয়ার আলম উপজেলার পতিরাজপুর দুবলারচরা গ্রামের রুস্তম আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদীর রেলওয়ে সরকারী নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বাবা জানান, 'আমার ছেলের স্ত্রী গত বছর মারা গেছে, তার কোন সন্তানও ছিলনা। মৃত্যুর আগের দিন ঘরে একাই ঘুমিয়ে ছিল সে। সকালে হঠাৎ পেটে ব্যাথায় অস্থির হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। কি এমন হলো যে তার এভাবে মৃত্যু হবে।'

ওই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগেরদিন এক বন্ধুর সঙ্গে রাতে খেয়ে বাসায় ফিরেছিল সে। সকালে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। থানায় অভিযোগকারী সাজেদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে তারা এটিকে অসুস্থ্যজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করলেও সারওয়ার আলমের দুই চিকিৎসক বন্ধু লাশ দেখে সন্দেহ করেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মামলার ধারা পরিবর্তন করা হতে পারে।