নোয়াখালীতে বাগানে স্কুলছাত্রীর লাশ

মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি বাবার

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০   

নোয়াখালী প্রতিনিধি

তানজিনা আক্তার রিয়া

তানজিনা আক্তার রিয়া

‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে অপহরণ করে কিংবা প্রলোভন দিয়ে পরিত্যাক্ত বাগানে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা প্রাঙ্গনে কান্না জড়িত কন্ঠে এ দাবি করেন কথা বলেন ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর। সোমবার সোনাইমুড়ী উপজেলার পূর্ব রশিদপুর গ্রামের একটি বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী তানজিনা আক্তার রিয়ার বাবা তিনি।

তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মুখে লাশ পাওয়ার খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থল গিয়ে দেখেন মেয়ের লাশ বাগানের মাটিতে পড়ে আছে। তার গায়ের শীতের চাদরটি একটি চারা আম গাছের সঙ্গে ঝুলানো। মৃতদেহ থেকে বেশ দুরে তার জুতা ও স্কুল ব্যাগ। রিয়ার গলায় দাগ রয়েছে। সবকিছু মিলে এটা পরিস্কার রিয়াকে ওই পরিত্যাক্ত বাগানে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়েছে কি-না তা তিনি বলতে পারেন না।

তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার সকালে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুস সামাদ থানায় তাকে ডেকে নিয়ে একটি জিডি-তে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে রিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণার কথা উল্লেখ ছিল। তাই তিনি জিডি-তে স্বাক্ষর করেননি। তার দাবি- তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানান।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাজাহান শেখ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল ও নিহত ছাত্রীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‌‘মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছে- রশিদপুর গ্রামের মৃত মোস্তফার ছেলে হাবীব (১৬), তার বোন সুরাইয়া (১৬), একই গ্রামের মজিবুল হকের ছেলে রাকিব (১৬), তার বন্ধু জয়নাল (১৬), হাফিজ (১৬) ও ফেন্সি (১৬) এবং ফুসকা বিক্রেতা ইমন (২২)। এদের মধ্যে ইমন ছাড়া সবাই রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিহত রিয়ার সহপাঠী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) তাদেরকে সোনাইমুড়ী থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা তিনি বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুস সামাদ বলেন, কাউকে এখনও আটক করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বলেই তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে রিয়ার লাশ মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামের বাড়ী পৌঁছালে তার মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি, শিক্ষক ও সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জানাজা শেষে বাদ মাগরীব পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।